Friday, May 1, 2026
Homeআন্তর্জাতিকশেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক কখন

শেষ হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা বৈঠক কখন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। আগামীকাল বুধবার আলোচনার সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু, এ বৈঠক নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে কী চিন্তা করছে, এবং শেষ পর্যন্ত এ আলোচনা হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

আজ মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স, এপি ও সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে আসে আলোচনা নিয়ে সর্বশেষ তথ্য।

মধ্যস্থতাকারী দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আগামীকাল বুধবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বরাতে রয়টার্স জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চয়তা না দিলেও আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে ইরান। তবে শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছে ইরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার স্বীকৃতি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যস্থতাকারী দুই কর্মকর্তার বরাতে এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি আলোচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। শীর্ষ আলোচকরা বুধবার ভোরে ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলেও নিশ্চিত করেছেন ওই দুই কর্মকর্তা।

আল জাজিরা বলছে, আলোচনায় অংশ নেওয়া নিয়ে এখন দুই দেশের মধ্যে এক ধরণের ‘গেম’ বা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে। কে আগে ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা করছে দুই পক্ষ।

হোয়াইট হাউস জেডি ভ্যান্সের ওয়াশিংটন ছাড়ার সময়সূচি নিয়ে বেশ গোপনীয়তা বজায় রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত নিজেকে কূটনৈতিক বিব্রতকর অবস্থা থেকে রক্ষা করতে চাইছে। যদি মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছে যায় এবং ইরান শেষ মুহূর্তে না যায়, তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য লজ্জার কারণ হবে।

তবে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল না পৌঁছালেও গত কয়েকদিনে উভয়পক্ষের সহায়ক কর্মীরা ইসলামাবাদে আসতে শুরু করেছেন। ইসলামাবাদে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে দেশটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের দেওয়া একটি পূর্বশর্ত। তাদের দাবি, আলোচনায় বসার আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে।

এর মধ্যে গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরে একটি ইরানি তেলবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করলে ইরান আলোচনায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের শুরু হওয়া যুদ্ধ থামাতে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আগামী দুয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। তবে ঠিক কখন তা শেষ হবে—এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

ট্রাম্প প্রথমে ৭ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা দিলেও পরে ইঙ্গিত দেন, এটি ২২ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে পারে। তবে পাকিস্তান বলছে, বুধবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম), যা ইরানে বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ৩০ মিনিট, তখনই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে পারে।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র চায় এমন একটি চুক্তি, যা তেলের দাম বৃদ্ধি ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ঠেকাবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা আলোচনায় বসবে এবং আশা করি একটি ন্যায্য চুক্তি হবে। তবে তারা কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরান তার শর্ত না মানলে দেশটির সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

জবাবে ইরান জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা হলে তারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর অভিযোগ এনে বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) আলোচনাকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চান, যা বাস্তবতা বিবর্জিত।’

হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে ইরান এমন একটি চুক্তি করতে চায়, যাতে যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হয়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয় এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি অংশ বজায় রাখা যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments