Friday, May 1, 2026
Homeরাজনীতিগালগল্প বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যাইনি: বিরোধীদলীয় নেতা

গালগল্প বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যাইনি: বিরোধীদলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিদেশে অনেক কষ্ট করে প্রবাসীরা টাকা আয় করেন। সেই টাকা দিয়ে তারা বিদেশে প্রাসাদ না বানিয়ে দেশে পাঠান। তবে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেইটে শ্রমিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।

জামায়াত আমির বলেন, বিদেশে মিশন, হাইকমিশন, অ্যাম্বাসি বা বড় বড় কর্মকর্তা থাকলেও প্রবাসীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা পাসপোর্ট রিনিউ করতে গেলে দালালদের খপ্পরে পড়ে বিড়ম্বনার শিকার হন। সঙ্গত বা অসঙ্গত কারণে কেউ চাকরি হারালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না।

প্রবাসীদের দাবির বিষয়ে ঠিকমতো কথা বলা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের মর্যাদা যেন নিশ্চিত করা হয়। তাদের প্রয়োজনে দেশ ও সরকার যেন পাশে দাঁড়ায়। যেসব দেশে অ্যাম্বাসি প্রবাসীদের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে না পারে, সেখানে অ্যাম্বাসি থাকার দরকার নেই। অ্যাম্বাসির কাজ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লালন-পালন করা নয়, দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের কাজ।

শ্রমিক দিবস প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিবছর সারা বিশ্বে শ্রম দিবস পালিত হয়। বিভিন্ন দেশে শ্রমিক সমাবেশগুলোতে সরকারি ও বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়ে শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের আশ্বাস দেন।

‘শিকাগোর বেদনাদায়ক ঘটনার ১৪০ বছর পার হয়েছে। নেতাদের দেওয়া ওয়াদার ১০ ভাগের এক ভাগও যদি পূরণ করা হতো, তাহলে শ্রমিকদের আর কোনো দাবি-দাওয়া অবশিষ্ট থাকতো না’, যোগ করেন তিনি।  

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রয়োজন ও মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না।

বামপন্থী সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে যারা নিজেদের বামপন্থী বলে দাবি করেন, তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বেশি সংগ্রাম করেন। এখন বাংলাদেশে, তার আগে পাকিস্তানে ধারাবাহিকভাবে এটি চলে আসছে। যখনই কোনো ইস্যু আসে, বাম নেতারা সামনে এসে দাঁড়িয়ে যান। তারপরে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে, মাঠ গরম হয়, কিছু মানুষের জীবন যায়, অনেকে আহত হন। আর কিছু মানুষের চাকরি যায়।

‘কিন্তু নেতারা রাতের আঁধারে ভাগটা পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তারা ব্ল্যাকমেইলিং করে। এভাবে যুগ যুগ ধরে নেতারা কপালের পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে সংসদ হবে—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। বিরোধী দল গালগল্প করা বা ইতিহাসের মাস্টার হতে সংসদে যায়নি। সেখানে বিরোধী দল গিয়েছে দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলতে। শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সংসদের ভেতরে-বাহিরে লড়াই চলবে। শ্রমিকদের ন্যায্যতা ও মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন লড়াই অব্যাহত থাকবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments