গেল এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃষ্টি বেশি হয়েছে। শুধু সিলেটে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬০৩ মিলিমিটার। একইসঙ্গে স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি বেশি ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এপ্রিলে গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১১৯ মিলিমিটার হলেও বৃষ্টি হয়েছে ১৯৬ মিলিমিটার। এ মাসে গড়ে ৮ দিন বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ১১ দিন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়া চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে ১টি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম।
এতে আরও বলা হয়, চলতি মাসে ১ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হবে পারে। এর মধ্যে ১টি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এপ্রিলে সিলেটে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ২৯৫ মিলিমিটার হলেও হয়েছে ৬০৩ মিলিমিটার—যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সিলেটে গড়ে ১৩ দিন বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ২৩ দিন।
ঢাকায় গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ মিলিমিটার হলেও হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার—যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
চট্টগ্রামে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১২০ মিলিমিটার হলেও বৃষ্টি হয়েছে ১৬৪ মিলিমিটার। স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
রংপুরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১০৯ মিলিমিটার হলেও হয়েছে ২০৫ মিলিমিটার—যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
এছাড়া খুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ, বরিশালে ১৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের নিকলিতে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অন্যদিকে, রাজশাহীতে স্বাভাবিকের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে।
চলতি মাসে সারা দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এ বছর এপ্রিলে বৃষ্টি ধরন ছিল অস্বাভাবিক। সাধারণ এই সময় উপস্ট্রিমে (ভারতের দিকে) বৃষ্টিপাত বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর ডাউনস্ট্রিমে মানে বাংলাদেশে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

