Friday, June 5, 2026
Homeরাজনীতিআরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে নির্বাচন কমিশনে হাত দেবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে নির্বাচন কমিশনে হাত দেবো: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হলে এই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আগাগোড়া পরিবর্তন করা হবে এবং বিগত নির্বাচনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাদের বিচার করা হবে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই পরিস্থিতি হলে শক্ত হাতে প্রতিবাদ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এখানে তো অনেকে অনেক পজিটিভ কথা বললেন, কিন্তু এটা টোটালি একটা ইঞ্জিনিয়ারড ইলেকশন ছিল।‘

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রধান এখানে আছেন। হয়তোবা এই বক্তব্যের পরে এই অফিসে আমাকে ঢুকতে দেবে কিনা জানি না। তবে আরেকটা গণঅভ্যুত্থান হলে প্রথমে আমি নির্বাচন কমিশনে হাত দেবো, নির্বাচন কমিশনটা আপাদমস্তক গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পরিবর্তন করব।’

পাটওয়ারী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে কীভাবে নগ্নভাবে ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী বাংলাদেশ। আমরা এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও জমা দিয়েছি।

নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনে মারামারি ও ঘেরাওয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সমালোচনাও করেন এনসিপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সভ্য ইতিহাসে এটা হতে পারে না। কিন্তু লোকাল গভর্মেন্ট ইলেকশনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) এই ধরনের কোনো এক্টিভিটিতে যদি যান, সেটাতে রাজপথের পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হবে।’

ভোটের দিন সংঘাত এড়ানোর বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আফরোজা আব্বাস নির্বাচনের সময় বিভাগীয় কমিশনারের অফিসের সামনে পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক নিয়েছিল। আমি ডাক দিলে সেখানে পঞ্চাশ থেকে এক লাখ লোক আসতো। অনেকগুলা লাশ পড়তো। আমি শুধু একটা কারণে সরে আসছি। হসপিটালে যাইয়া যেই বাবার ছেলেটা মারা যেত, আমি তাকে কোনো জবাব দিতে পারতাম না।’

বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নেপালের চেয়েও উন্নত হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের ভবিষ্যতে আমরা বাংলার মাটিতে বিচার করব।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments