Wednesday, July 22, 2026
Homeসর্বোচ্চ কার্ড ইংল্যান্ডের, সর্বনিম্ন নরওয়ের; সেমিতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যেসব তারকা

সর্বোচ্চ কার্ড ইংল্যান্ডের, সর্বনিম্ন নরওয়ের; সেমিতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে যেসব তারকা

চলতি ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মাঠের শৃঙ্খলা বা ডিসিপ্লিনারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে একটি বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফাউলের সংখ্যার সঙ্গে কার্ড দেখার হারে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সবচেয়ে কম কার্ড দেখেছে নরওয়ে, তাদের ঠিক পরেই আছে আর্জেন্টিনা। 

কার্ডে নাজুক ইংল্যান্ড

কোয়ার্টার ফাইনালের দলগুলোর মধ্যে রেফারিদের বুকিংয়ের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ইংল্যান্ড। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ৫৪টি ফাউল করেছে। এই ফাউলগুলোর বিপরীতে থ্রি লায়ন্সদের নামের পাশে যোগ হয়েছে সর্বোচ্চ ৮টি কার্ড, যার মধ্যে ৭টি হলুদ কার্ড এবং ১টি লাল কার্ড রয়েছে। গাণিতিক হিসাবে, প্রতি ৬.৭৫টি ফাউল করার পরই ইংল্যান্ডকে একটি করে কার্ড দেখতে হয়েছে।

সবচেয়ে কম কার্ড নরওয়ের পকেটে, দ্বিতীয় আর্জেন্টিনা 

তালিকার অন্য প্রান্তে সবচেয়ে কম কার্ড দেখার রেকর্ড নরওয়ের। দলটি পুরো টুর্নামেন্টে ৪৮টি ফাউল করেছে, যা কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের মধ্যে ফাউলের সংখ্যার দিক থেকেও সর্বনিম্ন। এই ৪৮টি ফাউলের বিপরীতে নরওয়ের খেলোয়াড়রা কার্ড দেখেছেন মাত্র ২টি, যার দুটিই হলুদ কার্ড। গড়ে প্রতি ২৪টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছে। অন্য দিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টে ফাউল করেছে ৫৯টি, যার বিপরীতে তাদের নামের পাশে যোগ হয়েছে মাত্র ৩টি হলুদ কার্ড। অর্থাৎ, প্রতি ১৯.৬৬টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড দেখেছে।

ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও আর্জেন্টিনা বাদে বাকি ৬ কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট দলের অবস্থা:

মরক্কো: ৬১টি ফাউল করে মরক্কোর খেলোয়াড়রা হলুদ কার্ড দেখেছেন ৬টি। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ১০.১৬টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছেন।

বেলজিয়াম: ৬০টি ফাউল করার বিপরীতে বেলজিয়াম মোট ৫টি কার্ড দেখেছে (৪টি হলুদ ও ১টি লাল)। তাদের কার্ড পাওয়ার গড় হার প্রতি ১২টি ফাউলে ১টি।

ফ্রান্স: ফরাসিরা পুরো টুর্নামেন্টে ৪৯টি ফাউল করেছে এবং কার্ড দেখেছে ৪টি (সবগুলোই হলুদ কার্ড)। প্রতি ১২.২৫টি ফাউলে তারা ১টি করে কার্ড পেয়েছে।

স্পেন: ৫৫টি ফাউল করেও স্পেনের খেলোয়াড়রা হলুদ কার্ড পেয়েছেন মাত্র ৩টি। গড়ে প্রতি ১৮.৩৩টি ফাউলে রেফারি তাদের কার্ড দেখিয়েছেন।

প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার যারা

ফাউল করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হওয়ার দিক থেকে সবার ওপরে রয়েছে মরক্কো। আফ্রিকান এই দলটির বিরুদ্ধে অন্য দলগুলো সর্বোচ্চ ৮০টি ফাউল করেছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ইংল্যান্ড, যাদের গতি থামাতে প্রতিপক্ষ দলগুলো ফাউল করেছে ৭৭টি। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাউল হয়েছে ৭৫টি। এরপর যথাক্রমে ফ্রান্স (৪৪টি), স্পেন (৩৮টি), নরওয়ে (৩৫টি) এবং আর্জেন্টিনা ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সমান ৫৪টি করে ফাউল করেছে প্রতিপক্ষ দলগুলো।

সেমিতে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ১৭ ফুটবলার

কোয়ার্টার ফাইনালের এই পরিসংখ্যানের বড় একটি প্রভাব পড়ছে সেমিফাইনালের ভাগ্যে। ফিফার ডিসিপ্লিনারি নিয়ম অনুযায়ী, আগের ম্যাচগুলোর হলুদ কার্ডের কারণে টুর্নামেন্টের মোট ১৭ জন খেলোয়াড় এখন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে তারা যদি আরেকটি হলুদ কার্ড দেখেন, তবে তাদের দল সেমিফাইনালে উঠলেও তারা ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারবেন না।

ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দুই দল: কার্ডের মারপ্যাঁচে সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা হয়ে আছে মরক্কো এবং ইংল্যান্ড। দুই দলেরই সর্বোচ্চ ৪ জন করে খেলোয়াড় নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আছেন। মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ইশা দিওপ, রেদোয়ান হালহাল ও বিলাল এল খানুস রয়েছেন এই তালিকায়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম, ডেক্লান রাইস, মার্ক, গুয়েহি এবং নিকো ও’রাইলি কোয়ার্টার ফাইনালে কার্ড পেলেই দল উঠলেও সেমিফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন। (উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় নরওয়ের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ থেকে এমনিতেই ছিটকে গেছেন)।

অন্যান্য দলের অবস্থা: ফ্রান্সের মানু কোনে ও মাইকেল অলিসে রয়েছেন কার্ডের ঝুঁকিতে। সুইজারল্যান্ডের গ্রানিত জাকা, দেনিস জাকারিয়া ও মিরো মুহেইম এবং স্পেনের ফেরান তোরেস, নরওয়ের আন্তোনিও নুসা, বেলজিয়ামের ব্র্যান্ডন মেখেলে ও আর্জেন্টিনার গনসালো মন্তিয়েলও এক কার্ডের দূরত্বে আছেন সেমিফাইনালের নিষেধাজ্ঞা থেকে।

কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শেষে মুছে যাবে আগের কার্ডের হিসাব 

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব শেষ হওয়ার পর সমস্ত একক হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে কার্ড না খেয়ে কোনো খেলোয়াড় যদি সেমিফাইনালে ওঠেন, তবে তার আগের কার্ডটি বাতিল হয়ে যাবে এবং তিনি একদম ফ্রেশ রেকর্ড নিয়ে সেমিফাইনাল খেলতে পারবেন। ফলে কোনো খেলোয়াড়ই কেবল হলুদ কার্ড জমার কারণে ফাইনাল মিস করবেন না।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments