Wednesday, July 22, 2026
Homeরেফারির ভুল ঠেকাতে ৪ বছরের প্রস্তুতি, ফিফার বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা

রেফারির ভুল ঠেকাতে ৪ বছরের প্রস্তুতি, ফিফার বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা

বিশ্বকাপে একটি ভুল বাঁশি বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের ভাগ্য। একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলতে পারে বছরের পর বছর। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে রেফারিদের ভুলের সম্ভাবনা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে ফিফা। খেলোয়াড়দের মতোই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গত চার বছর ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের রেফারিদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল প্রায় চার বছর আগে। টুর্নামেন্ট যত এগিয়ে এসেছে, বিশেষ করে শেষ ছয় মাসে তাদের অনুশীলনের মাত্রাও তত বাড়ানো হয়েছে।

ফিফার বিশ্বাস, ক্লান্তি বাড়লে রেফারিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক অবসাদ অবস্থান নেওয়ার দক্ষতা, দেখার কোণ এবং প্রতিক্রিয়ার গতি কমিয়ে দেয়। আর সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত।

এই কারণেই এবার রেফারিদের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়েছে খেলোয়াড়দের মতোই আধুনিক প্রযুক্তি। অনুশীলনের সময় তাদের শরীরে লাগানো হয় জিপিএস ট্র্যাকার, হার্ট রেট সেন্সর এবং রক্তে ল্যাকটেটের মাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রেফারির জন্য আলাদা অনুশীলনসূচি তৈরি করা হয়।

ফিফা জানিয়েছে, ‘আমরা খেলোয়াড়দের মতো একই মানের ডেটা ট্র্যাকিং প্রযুক্তি রেফারিদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করি।’

বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি ও ৩০ জন ভিডিও ম্যাচ কর্মকর্তা বর্তমানে মায়ামিতে বিশেষ ক্যাম্পে রয়েছেন। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে ১২ জন চিকিৎসক, ১০ জন ফিজিওথেরাপিস্ট এবং ক্রীড়া পুষ্টিবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন শেফ।

রেফারিদের শুধু ফিট থাকাই নয়, ভিন্ন পরিবেশেও যেন একই মানের সিদ্ধান্ত দিতে পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ এক ম্যাচ হতে পারে মায়ামির প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতায়, আবার পরের ম্যাচ মেক্সিকো সিটির সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২০০ মিটার উঁচু পরিবেশে। দীর্ঘ বিমানযাত্রা, সময়ের পার্থক্য এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যও বিশেষ পরিকল্পনা করেছে ফিফা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকে গরম, আর্দ্রতা ও বিভিন্ন টাইম জোনে কাজ করার বিষয়ে মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছেন কর্মকর্তারা।

ম্যাচের আগে রেফারিদের ম্যাচ-পরিস্থিতির মতো অনুশীলন, স্প্রিন্ট ও দ্রুতগতির দৌড় করানো হয়। আর ম্যাচের পর থাকে সক্রিয় পুনর্বাসন, ম্যাসাজ এবং ক্রায়োথেরাপি, যাতে দ্রুত ক্লান্তি কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়। গরমের প্রভাব কমাতে বিশেষ হাইড্রেশন সাপ্লিমেন্ট এবং সূর্যের তাপ এড়িয়ে অনুশীলনের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবু সব প্রস্তুতির পরও ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে জার্মান রেফারি ফেলিক্স জভায়ের যোগ করা সময়ে পায়ে টান লেগে মাঠেই পড়ে যান। দুই দলের খেলোয়াড় ও সহকারী রেফারির সহায়তায় চিকিৎসা নিয়ে তিনি ম্যাচ শেষ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments