Wednesday, July 22, 2026
Homeফের গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর ট্রাম্পের, তুরস্কে এফ-৩৫ বিক্রির ইঙ্গিতে উদ্বেগে ইসরায়েল

ফের গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর ট্রাম্পের, তুরস্কে এফ-৩৫ বিক্রির ইঙ্গিতে উদ্বেগে ইসরায়েল

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে মঙ্গলবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় গিয়ে আবারও গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ট্রাম্পের এই দুই অবস্থানই ন্যাটো জোটের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।’

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ন্যাটো নেতারা আঙ্কারায় সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

রয়টার্স বলছে, স্বশাসিত ড্যানিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন। এ অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের সম্পর্ক যেমন টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে, তেমনি ইউরোপের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, ডেনমার্ক দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যয় করছে না। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার নৌ-তৎপরতা বাড়ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তা হতে দেবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ইস্যুই ন্যাটোর সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি ঘটিয়েছে। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের জন্য যথেষ্ট ব্যয় করে না। অথচ এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চারপাশে চীন ও রাশিয়ার জাহাজ রয়েছে, এটি চলতে দেওয়া হবে না।’

রাশিয়াকে মোকাবিলায় ডেনমার্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর আঙ্কারাতেই প্রতিক্রিয়া জানান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেতে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে মিত্র দেশগুলোর সম্মান করা উচিত এবং গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়।

ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিতে চায়—এটি সবারই জানা। তবে এটাও সবার জানা উচিত যে, সেটি কখনোই ঘটবে না।’

তিনি আরও জানান, আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আর্কটিক অঞ্চল বা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা নেই।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেখানকার জনগণই। ‘সবসময়ই এমন ছিল, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে,’ উল্লেখ করে তিনি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত জুনে জানিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রতি মাসেই আলোচনা চলছে।

এদিকে তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান সামরিক শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে।

তিনি বলেন, ‘তুরস্কের আগ্রাসী উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে আমি মনে করি। তাদের হাতে এ ধরনের সক্ষমতা তুলে দিলে তার পরিণতিতে আরও আগ্রাসী আচরণ দেখা যাবে।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে দীর্ঘদিন ধরেই আঙ্কারা কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আশা করছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে ইতোমধ্যে মূল্য পরিশোধ করা পাঁচটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের পথ আবারও উন্মুক্ত হতে পারে।

এর মধ্যেই আঙ্কারায় ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানান এরদোয়ান। বিমানবন্দরে নিজে উপস্থিত থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান তিনি। পরে ট্রাম্পকে বহনকারী গাড়িবহরকে অশ্বারোহী নিরাপত্তারক্ষীরা প্রেসিডেন্সিয়াল কমপাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। 

সেখানে সামরিক কুচকাওয়াজ, ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সম্মানরক্ষী, যুদ্ধবিমানের ফ্লাইপাস্ট এবং তুরস্কের বেসতেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপাউন্ডে রাজকীয় আয়োজনের মাধ্যমে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এরদোয়ানের পাশে বসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি একজন অসাধারণ নেতা। আমাদের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।’ বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে অভ্যর্থনা জানানোর পাশাপাশি এরদোয়ান কয়েকবার তার হাত ধরে এগিয়ে নেন।

২০১৪ সালে প্রায় ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত বেসতেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কমপাউন্ড, যা ‘হোয়াইট প্যালেস’ নামেও পরিচিত, অটোমান ও সেলজুক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।

বিরোধীরা এটিকে এরদোয়ানের বিলাসিতা ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতীক বলে সমালোচনা করলেও, বিশাল এই প্রাসাদের জাঁকজমক ট্রাম্পের বিশেষ পছন্দ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন নেতা ট্রাম্পকে আকৃষ্ট করতে রাজকীয় আয়োজনের কৌশল নিয়েছেন বলেও এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং কাতার ও সৌদি আরবের শাসকরাও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করেছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments