Thursday, July 23, 2026
Homeঅপরাধবেনাপোল স্থলবন্দরে জলাবদ্ধতা, কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট

বেনাপোল স্থলবন্দরে জলাবদ্ধতা, কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট

টানা দুদিনের বৃষ্টিতে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বন্দরের একাধিক গুদামে পানি ঢুকে কোটি টাকার আমদানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবারও বৃষ্টির পানি বিভিন্ন গুদামে ঢুকে আমদানি করা পণ্য নষ্ট করেছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি গুদামে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের দাবি, এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে তারা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি।

আমদানিকারক আল মামুন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই বন্দরের বিভিন্ন গুদামে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতি বর্ষাতেই কোটি টাকার আমদানি পণ্য নষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, একদিকে পণ্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ (অতিরিক্ত সংরক্ষণ ফি) গুনতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানিকারকেরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দর প্লাবিত হয়ে বিভিন্ন গুদামে রাখা আমদানি পণ্য নষ্ট হচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে সরকার বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজী রতন বলেন, টানা বৃষ্টিতে কয়েকটি গুদামে পানি ঢুকে পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি সরাতে পাম্প চালানো হলেও অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা রোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments