Saturday, July 25, 2026
Home‘লাখো বিশেষজ্ঞের মতো ম্যাচের পরে নয়, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাকে’: ম্যাচ...

‘লাখো বিশেষজ্ঞের মতো ম্যাচের পরে নয়, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাকে’: ম্যাচ হেরে বললেন টুখেল

আরও একবার ২০১৮ বিশ্বকাপের ভাগ্য বরণ করতে হলো ইংল্যান্ডকে। সেবারও সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও ২-১ গোলে হারতে হয়েছিল থ্রি লায়ন্সদের। দ্বিতীয়ার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পরেও অতি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার খেসারত দিতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। আক্রমণ না করে উল্টো খোলসে ঢুকে যাওয়ার দায় কোচ হিসেবে নিজের কাঁধে নিয়েছেন থমাস টুখেল। সাথে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর যারা ‘বিশেষজ্ঞ সেজে’ তার কৌশলের সমালোচনা করেছেন, তাদেরও এক হাত নিয়েছেন তিনি। 

আরও একবার ইংলিশদের স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার পর আলোচিত হচ্ছে টুখেলের ট্যাকটিকস। এনজো ফার্নান্দেজের সমতা ফেরানো গোলের ঠিক তিন মিনিট আগে ডেক্লান রাইস ও রীস জেমসকে উঠিয়ে দুই ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন ও নিকো ও’রেইলিকে নামান টুখেল। তখনই বোঝা যাচ্ছিলো, কোনো রকমে এক গোলের লিড ধরে রেখে জয়ের চিন্তা করছেন টুখেল। শেষ পর্যন্ত এই রক্ষণাত্মক মানসিকতাই কাল হয়েছে ইংল্যান্ডের জন্য। সাত মিনিটের মধ্যে দুই গোল আদায় করে নিয়ে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। 

ম্যাচ শেষে ট্যাকটিক্যাল এই ‘ভুলের’ দায় নিজেকেই দিয়েছেন টুখেল, ‘আমরা রক্ষণভাগে পাঁচজন খেলোয়াড় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারণ মাঝমাঠে অনেক বেশি ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়ে যাচ্ছিল। আর্জেন্টিনা অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়ে ও ছন্দময় ফুটবল খেলছিলসম্ভবত তাদের মনে হয়েছিল তাদের আর হারানোর কিছু নেই। তাদের এই মানসিকতা আমাদের রক্ষণাত্মক হতে বাধ্য করেছিল। স্বাভাবিকভাবেই আমরা তখন এরকম মানসিকতা নিয়ে খেলছিলাম যে আমাদের অনেক কিছু হারানোর ভয় আছে। অবশ্যই এর দায়ভার কোচের ওপরই বর্তায়, আর ফলাফল ভালো না হলে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল এমনটা বলা খুবই সহজ’। 

ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সবাই ফুটবল বিশেষজ্ঞ হয়ে গিয়ে তার সিদ্ধান্তের কাঁটাছেঁড়া করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন, এটা তিনি আগেই জানতেন বলেও খোঁচা দিয়েছেন টুখেল, ‘আমাদের যেটা ডুবিয়েছে সেটা হলো আমরা যথেষ্ট পরিমাণ সক্রিয় ছিলাম না। আমি জানি ইতোমধ্যে এসব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। খেলা শেষ হওয়ার পর লাখ লাখ কোচ কোনটা ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল আর কোনটা ভুল এসব নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। আপনারা তাদের সাথে এসব নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। কিন্তু আমাকে ম্যাচের পর নয়, খেলা চলাকালীন মাঠে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি এভাবেই ম্যাচের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছিলাম। পরাজয়ের দায়ভার আমি নিচ্ছি’। 

তবে দায় স্বীকার করে নিলেও এই পরাজয়ে তার কোনো অনুতাপ নেই বলেও জানিয়েছেন জার্মান এই কোচ, ‘এই মুহূর্তে আমার কোনো অনুতাপ নেই। দল তার সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আমরা জেতার খুব কাছাকাছি ছিলাম। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের সেরা ম্যাচটাই খেলেছি। শুধু শেষ লাইনটাই অতিক্রম করতে পারিনি’। 

বড় ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও এভাবে ম্যাচ হেরে আসাটা ইংলিশদের মানসিকতার সাথে সম্পর্কিত কি না, এমন প্রশ্নে বেশ বিরক্ত হয়েছেন টুখেল, ‘আমি এসবে বিশ্বাস করি না। বিভিন্ন সময়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে মাত্র। অথচ কোচ আলাদা, খেলোয়াড় আলাদা, এমনকি পরিস্থিতিও ভিন্ন’। 

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments