Saturday, July 25, 2026
Homeইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

ইরানে আবারো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব তথ্য জানিয়েছে।

একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘাত তীব্র রূপ নিল। এতে আবার নতুন করে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ইরান আবারো জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে।

গত শনিবার ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই পথেই হতো।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে ইরানের গ্রেটার তুনব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে হামলা শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এর নয় ঘণ্টা পর তারা ইরানের একাধিক শহরে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালায়।

মার্কিন বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা বন্দর আব্বাসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়েছে, যেখানে ইরানের বৃহত্তম বন্দর এবং হরমুজ প্রণালিতে দেশটির নৌবাহিনী ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি অবস্থিত।

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বৃহত্তম বন্দর শহর বন্দর আব্বাসের নৌবাহিনী ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ঘাঁটিতেও আক্রমণ করা হয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেটার তুনব দ্বীপে টানা ৯০ মিনিট ধরে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়।

জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বাহরাইন, কুয়েত ও জর্দানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করার কথা জানিয়েছে। তারা কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

রয়টার্সকে তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি শত্রুমুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পরবর্তী পর্যায়ের আরও বড় ও জটিল অভিযান শুরুর আগেই ইরানের প্রধান সামরিক শক্তিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের খারগ দ্বীপের দিকে যাওয়ার পথে একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় একটি খালি তেলবাহী জাহাজকে অকেজো করে দিয়েছে। জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে থামানো হয়।

মঙ্গলবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ পুনরায় শুরু করার পর এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দুটি জাহাজকে ভিন্ন পথে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং একটিকে অকেজো করেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম বন্দর আব্বাসসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। খোন্দাব, আহভাজ শহর, দক্ষিণের কোনারক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আহভাজের একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতালের কাছে মার্কিন হামলায় হাসপাতালটি সাময়িকভাবে খালি করতে হয়েছে। রাস্তায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলোকে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

হামলার প্রথম পর্যায়ের পর তেহরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, এটি আমেরিকার সঙ্গে ইরানের এক অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ।

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। এই যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক সমঝোতা স্মারকে সই করে। তবে এখন নতুন করে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান খুব শিগগিরই পরাজিত হবে। তিনি বলেন, ইরান এখন সমঝোতা করতে মরিয়া।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments