Friday, July 24, 2026
Homeইংল্যান্ডকে হারিয়ে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনারই’ ব্যানার হাতে মাঠে মার্টিনেজরা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনারই’ ব্যানার হাতে মাঠে মার্টিনেজরা

ম্যাচের আগে লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন, এটিকে স্রেফ আরেকটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন তিনি। কিন্তু ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ম্যাচ যে কেবল ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, সেটি আঁচ করেছিলেন অনেকেই। হয়েছেও অনেকটাই সেরকমই। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনারই’- এমন রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার নিয়ে সমর্থকদের সাথে জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন আর্জেন্টিনার বেশ কিছু ফুটবলার। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে হঠাৎই হাতে একটি ব্যানার নিয়ে দর্শকসারির দিকে যেতে দেখা যায় দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও জিওভানি লো সেলসোকে। সাদা কাপড়ের উপর কালো কালিতে ওই ব্যানারে লেখা ছিলো ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনারই’। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের কাছে এই ব্যানার কোথা থেকে এলো, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। 

তবে এই ঘটনায় বিপাকে পড়ার শঙ্কা থেকে যাচ্ছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের। ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, মাঠের ভেতরে কোনো রকম রাজনৈতিক, আক্রমণাত্মক ও বৈষম্যমূলক ব্যানার, পতাকা, ফ্লায়ার প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ফিফার তরফ থেকে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। 

তবে চলতি বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে বিতর্কের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচের সময় ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা গ্যালারিতে ইরানের বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকা ওড়ানযা তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। ম্যাচগুলো অবশ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।

দক্ষিণ আটলান্টিকের যেসব দ্বীপ ব্রিটিশদের কাছে ‘ফকল্যান্ড’ এবং আর্জেন্টাইনদের কাছে ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিতসেগুলোর মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপগুলোকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধও হয়েছিলযাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সৈন্য এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ যোদ্ধা প্রাণ হারান। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেন জয়ী হয় এবং দ্বীপগুলোর অধিকাংশ বাসিন্দা ব্রিটেনের অংশ হিসেবেই থেকে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

তবে আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের দাবি হলো১৮১৬ সালে স্বাধীনতার পর স্পেন থেকে তারা এই দ্বীপগুলোর মালিকানা লাভ করেছিল এবং ১৮৩৩ সালে ব্রিটেন একটি অবৈধ ঔপনিবেশিক আইনের  মাধ্যমে এগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments