Friday, July 24, 2026
Homeশিষ্যের বিপক্ষে গুরু, লা রোসাসের শ্রেণিকক্ষ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে

শিষ্যের বিপক্ষে গুরু, লা রোসাসের শ্রেণিকক্ষ থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে

একদিকে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল এমনিতেই মহারণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে এই লড়াইয়ের আড়ালে রয়েছে আরও একটি আবেগঘন গল্প, স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির। কয়েক বছর আগে যিনি ছিলেন স্কালোনির কোচিং শিক্ষক, এবার সেই দে লা ফুয়েন্তের বিপক্ষেই বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নামছেন তারই সাবেক ছাত্র।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। পরদিন নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে তাদের সঙ্গী হয় আর্জেন্টিনা। ফলে নিউইয়র্কের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চাইছে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়তে। তবে এই ফাইনালকে আরও বিশেষ করে তুলেছে দুই কোচের সম্পর্ক।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি একসময় ছিলেন শিক্ষক ও ছাত্র। ২০১৭ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) লাস রোসাস কোচিং একাডেমিতে কোচিং কোর্স করার সময় স্কালোনির অন্যতম প্রশিক্ষক ছিলেন দে লা ফুয়েন্তে।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার মাত্র দুই বছর পর কোচিংয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন স্কালোনি। তখন স্পেনের বয়সভিত্তিক দলের দায়িত্বে থাকা দে লা ফুয়েন্তেই তার পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০২৪ কোপা আমেরিকার সময় সেই স্মৃতি মনে করে স্কালোনি বলেছিলেন, ‘লাস রোসাসে কোচিং কোর্স করার সময় লুইস আমাদের অনেক সাহায্য করেছিলেন। তার সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি।’

শুধু স্কালোনিই নন, দে লা ফুয়েন্তেও বরাবরই সাবেক ছাত্রের প্রশংসা করেছেন। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জেতানো স্কালোনিকে তিনি ‘মাস্টার’ বলেও অভিহিত করেছেন।

স্কালোনি নিজেও স্পেনের ফুটবলের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছেন। তার স্ত্রী এলিসা মনতেরো স্প্যানিশ। তাদের সন্তানদের জন্মও স্পেনে, আর পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন মায়োর্কায়। খেলোয়াড়ি জীবনেও দেপোর্তিভো লা করুনিয়া, রাসিং সান্তান্দার ও মায়োর্কার হয়ে স্পেনে দীর্ঘ সময় খেলেছেন ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ।

২০২৪ ইউরো চলাকালে স্কালোনি বলেছিলেন, ‘আমার পরিবারের একটি অংশ স্প্যানিশ। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি স্পেনকে সমর্থন করি।’

স্পেন ফাইনালে ওঠার পরও দে লা ফুয়েন্তের প্রশংসা করতে ভোলেননি আর্জেন্টাইন কোচ, ‘আমি উনার জন্য খুবই খুশি। সে এই সাফল্যের যোগ্য। দারুণ একজন মানুষ। তার দলে আমরা যা দেখি, আমাদের দলেও সেটাই দেখতে চাই।’

তবে সঙ্গে সঙ্গে মজার ছলেই যোগ করেছিলেন, ‘যদি আমরা ফাইনালে না উঠতে পারি, তাহলে তাকে ফোন করব। কিন্তু যদি ফাইনালে ওদের বিপক্ষে খেলি, তাহলে না… ফাইনাল শেষ হওয়ার আগে আর কোনো ফোন নয়।’

সেই ফোনকল এখন সত্যিই অপেক্ষায়। কারণ রোববার বন্ধুত্ব নয়, বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হবেন শিক্ষক ও তারই সাবেক ছাত্র। লাস রোসাসের শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা এবার পরীক্ষা দেবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ফাইনালে।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments