Saturday, July 25, 2026
Home‘এই ক্ষত এখন ইংল্যান্ডের আজীবনের সঙ্গী’, বললেন টুখেল

‘এই ক্ষত এখন ইংল্যান্ডের আজীবনের সঙ্গী’, বললেন টুখেল

১৯৬৬ সালের পর দীর্ঘ ছয় দশকের খরা কাটানোর স্বপ্ন ছিল। মারাকানা বা লুসাইল নয়, ইংলিশদের লক্ষ্য ছিল অধরা সেই সোনালী ট্রফিতে আরও একবার হাত ছোঁয়ানো। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তের ঝড়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় থ্রি লায়ন্সদের। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়ে যখন ফাইনালের সুবাস পাচ্ছিল ইংল্যান্ড, অতি রক্ষাণাত্মক হতে গিয়ে শেষ সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ আর লাউতারো মার্টিনেজের জোড়া আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় তারা। 

এই হারকে দলের বুকে এক গভীর ‘ক্ষত’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন ইংলিশ কোচ টমাস টুখেল। তবে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা সমালোচনার মুখে নিজের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন তিনি।

চলতি শতাব্দীতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমে গোল করেও ফাইনালের টিকিট কাটতে না পারার ঘটনা ঘটেছে মাত্র দুবার। আর দুঃখজনক হলেও সত্য, দুটি গল্পই ইংল্যান্ডের। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার পর ২০২৬ সালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটল থ্রি লায়ন্সদের ভাগ্যে।

ফাইনালে যেতে না পারার কষ্ট নিয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নামছে ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন,  ‘সবচেয়ে বেশি কষ্ট আমাদেরই হচ্ছে। এই ক্ষত এখন আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে। এটা আমাদের সবার বেদনা—আমার নিজের এবং খেলোয়াড়দের। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এক পরাজয় এবং এই সত্যিটা মেনেই আমাদের সামনে এগোতে হবে। কোনো সমালোচক, বিশেষজ্ঞ কিংবা আমাদের পরিবারের সদস্যরা আমাদের চেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন না।’

ম্যাচে লিড নেওয়ার পর গর্ডনকে উঠিয়ে এজরি কোনসা, ড্যান বার্ন ও নিকো ও’রাইলিকে মাঠে নামিয়ে রক্ষণাত্মক পাঁচ ডিফেন্ডারের ফরমেশনে চলে যান টুখেল। ফলশ্রুতিতে বলের নিয়ন্ত্রণ হারায় ইংল্যান্ড—প্রথম গোল এবং আর্জেন্টিনার সমতাসূচক গোলের মধ্যবর্তী সময়ে ইংলিশদের পায়ে বল ছিল মাত্র ১২ শতাংশ। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মার্কাস র‍্যাশফোর্ড ও ইভান টনিকে নামিয়েও সমতা ফেরানো যায়নি।

কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠলে টুখেল সাফ জানিয়ে দেন, ‘যদি জিজ্ঞেস করেন আমি অনুতপ্ত কি না, তবে বলব—একদমই না। আমি মাঠে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে দেখছিলাম, তাই দলকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আমার সহজাত প্রবৃত্তি, অভিজ্ঞতা আর জেতার মানসিকতার ওপর ভরসা করেই সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছিলাম। ফল আমাদের পক্ষে আসেনি, তাই কোচ হিসেবে এর দায় সম্পূর্ণ আমার।’

টুখেলের মতে, ফ্রান্স, স্পেন বা আর্জেন্টিনার মতো দলগুলো টুর্নামেন্টে আসে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আবহ নিয়ে, যেখানে ইংল্যান্ড এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তবে হাল ছাড়তে নারাজ তিনি, ‘আমাদের এখনো কিছু ঘাটতি আছে, যা পূরণ করতে হবে। আমরা লড়াই থামাব না।’

স্বপ্নের ফাইনাল হাতছাড়া হলেও ইংল্যান্ডের সামনে এখন সুযোগ রয়েছে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের সেরা সাফল্য পাওয়ার। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে তারা। এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে দুবার তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে নেমে দুবারই (১৯৯০ সালে ইতালি এবং ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে) হেরেছিল ইংল্যান্ড। এবার সেই ইতিহাস বদলে ফরাসিদের হারিয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল নিয়ে ঘরে ফেরাই এখন টুখেলের দলের মূল লক্ষ্য।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments