Friday, July 24, 2026
Homeমেসি ও এমিলিয়ানোর কারণে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট মানছেন হামজা

মেসি ও এমিলিয়ানোর কারণে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট মানছেন হামজা

বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার ভীষণ কঠিন মিশন পূর্ণ করতে আর্জেন্টিনা আর মাত্র একটি জয় দূরে। বাংলাদেশ দলের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিশ্বাস, নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আলবিসেলেস্তেদের আশার মূল চাবিকাঠি হবেন পরিচিত দুটি নাম— অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

‘বিকাশ প্রেজেন্টস দ্য ড্রিম কাপ উইথ হামজা’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি কেবল তাদের মান ও অভিজ্ঞতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বড় ম্যাচগুলোর ভাগ্য গড়ে দিতে সক্ষম এমন একজন মহাতারকার উপস্থিতিও তাদের বড় অস্ত্র।

‘মাঠের সব জায়গাতেই আর্জেন্টিনার মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে এবং বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা জয়ের মানসিকতাও তাদের রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত, যখন শেষ বাঁশি বাজার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন সবাই একজন মানুষের দিকেই তাকিয়ে থাকে। মেসি সেই বিশ্বাস, নেতৃত্ব ও ভয়ের আবহটা নিয়ে আসেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আর্জেন্টিনা যদি আবারও বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে, তবে আমার বিশ্বাস তাদের অধিনায়ক আবারও এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন,’ বলেন হামজা।

৩৯ বছর বয়সেও মেসি ঠিক ততটাই প্রভাবশালী, যতটা তিনি চার বছর আগে কাতারে আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপা জয়ের সময় ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে তার পারফরম্যান্স আবারও বড় মঞ্চের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অনন্য ক্ষমতারই প্রমাণ দেয়।

মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নিয়ে লেস্টার সিটির এই খেলোয়াড় যোগ করেন, ‘মেসি তার দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তা ও অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়বেমন মুহূর্তগুলো তৈরি করার ক্ষমতা দিয়ে খেলাটিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। আমি যখন তার সব অর্জনের দিকে ফিরে তাকাই, তখন তার এই যাত্রাকে ফুটবলের এক রূপকথার মতোই মনে হয়। হ্যাঁ, তিনি অবিশ্বাস্য এক ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা নিয়ে জন্মেছিলেন, কিন্তু কেবল প্রতিভা দিয়ে কেউ প্রায় দুই দশক ধরে শীর্ষে টিকে থাকতে পারে না।’

তবে হামজার মতে, প্রতিটি বড় দলেরই রক্ষণের শেষভাগে একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় প্রয়োজন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো সেই দায়িত্বটা নিখুঁতভাবেই পালন করেন।

‘মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনার এমন একজন খেলোয়াড় আছেন, যিনি তাদের দারুণ আত্মবিশ্বাস জোগান— এমিলিয়ানো। তিনি এমন একজন গোলরক্ষক, যিনি বড় মঞ্চের জন্যই তৈরি হয়েছেন। মঞ্চ যত বড় হয়, তিনি যেন ততই শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। ম্যাচের শেষদিকে গুরুত্বপূর্ণ সেভ করাই হোক কিংবা পেনাল্টি শুটআউটের চাপ সামলানো, তাকে সবসময়ই শান্ত ও নির্ভীক দেখায়।’

ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নিয়ে আলোচনার বাইরে গিয়ে হামজা মনে করেন, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো স্কোয়াডের মধ্যকার রসায়ন।

‘আর্জেন্টিনাকে যে বিষয়টি এত ভয়ংকর দলে পরিণত করেছে, তা কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়। এই স্কোয়াডটি দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে আছে এবং একে অপরকে নিখুঁতভাবে বোঝে। তারা জানে জেতার জন্য কী প্রয়োজন, কারণ তারাই বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। সেই সাফল্য চাপও নিয়ে আসে, কিন্তু এই দলটি দেখিয়েছে যে কীভাবে তা সামলাতে হয়।’

১০৩টি ম্যাচের পর দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার ঐতিহাসিক প্রথম ফাইনাল দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ তার শেষ অঙ্কে পৌঁছেচ্ছে। স্পেন তর্কসাপেক্ষে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল হিসেবে যেমন আবির্ভূত হয়েছে, তেমনি আর্জেন্টিনার কাছেও সমান মূল্যবান একটি বিষয় রয়েছে— ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কার অর্থাৎ বিশ্বকাপ কীভাবে জিততে হয় সেই অভিজ্ঞতা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments