Saturday, October 24, 2026
Homeঅপরাধ‘পেশাদার চোর নই, ভুল করে চুরি করে ফেলেছি’

‘পেশাদার চোর নই, ভুল করে চুরি করে ফেলেছি’

‘আমি কোনো পেশাদার চোর নই। কিন্তু ভুল করে চুরি করে ফেলেছি। কাজটি করে আমি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে এমন হীন কর্মকাণ্ডে জড়াব না, অঙ্গীকার করছি’— চিরকুটে এমন কথা লিখে চুরি করা গ্যাস সিলিন্ডার ফেরত দিয়ে গেছেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি।

শুধু তা-ই নয়, চুরির ঘটনায় এলাকায় যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য প্রকৃত মালিকের কাছে জিনিসটি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধও করেছেন তিনি।

গত সোমবার রাতে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ আগস্ট উপজেলার চরফরাদী এলাকার চরফরাদী মাদ্রাসা মোড়ের কামাল মিয়ার চায়ের দোকান থেকে একটি বড় গ্যাস সিলিন্ডারসহ কয়েকটি জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়।

পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের কাছে বিচারপ্রার্থী হন দোকানদার কামাল মিয়া। দুদিন পর ১৭ আগস্ট রাতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির রেখে যাওয়া একটি চিরকুটসহ চুরি যাওয়া গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায় চরফরাদী মাদ্রাসায়। পরে মাদরাসার এক শিক্ষক বিষয়টি চা দোকানদার কামাল মিয়াকে জানান।

চিরকুটে লেখা ছিল,  ‘এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ, সর্বপ্রথম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি কোনো পেশাদার চোর নই। কিন্তু ভুল করে চুরি করে ফেলেছি। কাজটি করে আমি অনুতপ্ত। ভবিষ্যতে এমন হীন কর্মকাণ্ডে জড়াব না, অঙ্গীকার করছি।’

‘এই চুরির বিষয় নিয়ে এলাকার শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন লোককে দোষারোপ করে বিশৃঙ্খলা তৈরির সম্ভাবনা দেখে জিনিসটি ফেরত দিলাম। দয়া করে জিনিসটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দেবেন।’

এতে আরও লেখা ছিল, ‘জিনিসটি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক ভেবে-চিন্তে দেখলাম, প্রকৃত মালিককে কোন উপায়ে ফেরত দেওয়া যায়। অন্য কোনো উপায় না দেখে মাদরাসায় রেখে গেলাম। তা ছাড়া বিশ্বস্ত কোনো লোক বা উপায় পেলাম না। দয়া করে প্রকৃত মালিককে ফেরত দেবেন।’

শেষে লেখা ছিল, ‘জিনিসটি ঠাকুরবাড়ির চা দোকানদার কামালের।’ পাশাপাশি কাগজটি পাওয়ার পর ছিঁড়ে ফেলার অনুরোধ করে ক্ষমা চেয়েছেন ওই ব্যক্তি।

মনিরুল ইসলাম নামে স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, এমন অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা এলাকায় এটাই প্রথম। বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। সবার মাঝে এরকম অনুশোচনা হলে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা কমে যেতো।

দোকানদার কামাল মিয়া জানান, চুরির পর তিনি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানিয়েছিলেন। তবে মালামাল ফেরত পাবেন কি না তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। পরে মাদ্রাসায় গ্যাস সিলিন্ডার ও চিরকুট পাওয়ার খবর পান। গিয়ে দেখেন এটা তারই গ্যাস সিলিন্ডার।

সিলিন্ডার ফেরত পাওয়ায় তিনি স্বস্তি জানিয়ে বলেন, অনুশোচনা করায় চোরকে আমি ক্ষমা করে দেওয়ার পাশাপাশি জিনিসটা ফেরত দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদও দিচ্ছি। কারণ, জিনিসটি ফেরত না পেলে হয়তো অনেককে সন্দেহ করার কারণে এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতো। 
 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments