Wednesday, April 29, 2026
Homeবিনোদনআশা ভোসলের কণ্ঠে কালজয়ী হিন্দি ও বাংলা গানগুলো

আশা ভোসলের কণ্ঠে কালজয়ী হিন্দি ও বাংলা গানগুলো

ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলের বিদায়কে সংগীতপ্রেমীরা দেখছেন এক যুগের অবসান হিসেবে। 

গতকাল রোববার দুপুরে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আজ সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় তার শেষকৃত্য। শ্রদ্ধা ও অগণিত মানুষের ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হয় এ কিংবদন্তিকে। 

এর আগে তার মরদেহ মুম্বাইয়ের লোয়ার পারেলের বাসভবন থেকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে শিবাজি পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে আনন্দ ভোসলেসহ পরিবারের সদস্যরা। 

শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন আমির খান, শচিন টেন্ডুলকার, এ আর রহমান, জ্যাকি শ্রফ, রিতেশ দেশমুখ, রণবীর সিং, রাকেশ রোশন, হেলেন, পুনম ধিল্লন, মীনাক্ষী শেশাদ্রি, টাবুসহ আরও অনেকে।

তার জনপ্রিয় হিন্দি গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—  

‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘মেরা কুছ সামান’, ‘ও হাসিনা জুলফোওয়ালি’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দাম মারো দাম’, ‘রঙ্গিলা রে’, ‘রাধা ক্যায়সে না জালে’, ‘কাহিঁ আগ লাগে’, ‘রোজ রোজ আঁখো তলে’, ‘এক ম্যায় অউর এক তু’, ‘জাওয়ানি জানে মান’, ‘দো লফজো কি কাহানি’, ‘রাত আকেলি হ্যায়’, ‘ও মেরি সোনা রে’, ‘ঝুমকা গিরা রে’, ‘তুমসে মিলকে’,  ‘তু হ্যায় ওহি’, ‘এক হাসিনা থি’, ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’, ‘অ্যায় মেহেরবান’, ‘ক্যায়া গাজব করতে হো জি’, ‘ইয়ে মেরা দিল ইয়ার কা দিওয়ানা’, ‘হাঙ্গামা হো গ্যায়া’, ‘রাত বাকি বাত বাকি’, ‘পারদে মে রেহনে দো’, ‘কই সেহেরি বাবু’, ‘এ লাড়কা হায় আল্লাহ’, ‘খুল্লাম খুল্লা পেয়ার কারেঙ্গে’, ‘ভোলি ভোলি সি এক সুরাত’, ‘ও সাথি রে’ ইত্যাদি। 

বাংলা গানের মধ্যে রয়েছে— 

‘তোমারই চলার পথে আমি’, ‘কিনে দে রেশমি চুড়ি’, ‘কথা দিলাম আমি কথা দিলাম’, ‘আর কত রাত একা থাকব’, ‘ফুল কেন লাল হয়’, ‘ছোট্ট একটা ভালোবাসা’, ‘কত না ভাগ্য আমার’, ‘আমি মন দিয়েছি’, ‘মায়াবী এ নেশা’,  ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও’, ‘আকাশে সূর্য আছে যতদিন’, ‘বন্ধ মনের দুয়ার’, ‘প্রেম কিসে হয়’, ‘নাগর আমার কাঁচা পিরিত’, ‘আজ আকাশে রঙের খেলা’, ‘মধুবনে বাঁশি বাজে’, ‘নাচ ময়ূরী নাচ রে’, ‘আধো আলো ছায়াতে’, ‘তুমি আমার নয়ন গো’, ‘জানা অজানা পথে চলেছি’, ‘আরো কাছাকাছি’, ‘চোখে নামে বৃষ্টি’, ‘কি জাদু তোমার চোখে’, ‘আমি জানি না কেন’, ‘আমি অন্ধকারের যাত্রী’, ‘খুব চেনা চেনা মুখখানি তোমার’, ‘শোনো এইতো সময়’, ‘যেতে যেতে পথে হলো দেরি’, ‘শোনো মন বলি তোমায়’ প্রভৃতি। 

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড হয় তার। শুরুতে মূলত নাচের গান বা হালকা ধরনের গানের জন্য পরিচিতি পেলেও, পরে গজল এবং ধ্রুপদী সংগীতেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।

ক্যারিয়ারে বহু সম্মাননা পেয়েছেন আশা ভোসলে। এর মধ্যে আছে—১৯৮১ সালে প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয়বার জাতীয় পুরস্কার, ২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ও ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ। 

২০২২ সালে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রের শেষ গানটি রেকর্ড করেন। ৯১ বছর বয়সে ‘সাইয়াঁ বিনা’ নামে একটি একক গান প্রকাশ করে প্রয়াত স্বামী রাহুল দেব বর্মনকে উৎসর্গ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments