Friday, October 23, 2026
Homeঅপরাধসাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গাছ কাটার মামলায় বিএনপি-কৃষক লীগ নেতাসহ আসামি ২০

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গাছ কাটার মামলায় বিএনপি-কৃষক লীগ নেতাসহ আসামি ২০

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কাঠ পাচারের অভিযোগে বন বিভাগের দায়ের করা একটি মামলায় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের স্থানীয় নেতাসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ১৯২৭ সালের (২০০০ সালে সংশোধিত) বন আইনে চুনারুঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ মে পর্যন্ত পাইকপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত বন থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা হয়েছে। এরপর কাটা গাছগুলো চুরি করে কেনাবেচা করা হয় বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

মোবারক হোসেন জানান, একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে যেখানে গাছ কাটা, চুরি এবং চুরিকৃত কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ২০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ মিয়াকে এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।

অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মাধবপুরের শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার এবং মিরাশি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ।

এ মামলায় বেশ কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ীকেও আসামি করা হয়েছে।

মোবারক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মামলাটি করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন যে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনের ক্ষতি করে আসছিল।

অভিযুক্তদের একজন শফিকুল গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি প্রকৃতিপ্রেমী এবং প্রায় ২০ বছর ধরে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছি।

তিনি ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

মারুফ মিয়া এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের বারবার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ ইউনিটের সহ-সভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বিষয় হওয়া উচিত নয় এবং বনের ক্ষতি করার সঙ্গে জড়িত যে কাউকেই আইনের আওতায় আনা উচিত।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গাছ চুরির বিষয়ে বন বিভাগের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments