Friday, October 23, 2026
Homeঅপরাধ‘পেটে গজ রেখেই সেলাই’: নারীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা, জানালেন...

‘পেটে গজ রেখেই সেলাই’: নারীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ায় ৫১ দিন পর এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে মৃত কনিকা রানী মণ্ডলের (৩২) বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। চিকিৎসা অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কনিকা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ফরিদপুরের সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘আমাদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে আমি এখানে এসেছি’, বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে তৈরি হওয়া অব্যবস্থাপনা দুই-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কনিকার পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৯ জুন তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনী এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

পরদিন কনিকার পেট ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কনিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে কনিকা মারা যান।

তার মৃত্যুর ঘটনায় ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মোক্তার হোসেন খানকে সভাপতি এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সুলতানা বেগমকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সঞ্জীপন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জ্যোতিময় জ্যোতি ও নুপুর পাল (ডিআরএস)।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments