Thursday, October 22, 2026
Homeঅপরাধকর্মী নিয়োগে বাংলাদেশের যে ২৫ এজেন্সি নির্ধারণ করল মালয়েশিয়া, প্রক্রিয়া এখনো অস্পষ্ট

কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশের যে ২৫ এজেন্সি নির্ধারণ করল মালয়েশিয়া, প্রক্রিয়া এখনো অস্পষ্ট

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) ওয়েবসাইটে এজেন্সিগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ কীভাবে হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

ওয়েবসাইটে এজেন্সিগুলোর নাম কবে আপলোড হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থার অধীনে এজেন্সিগুলো কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের কাজ না পাওয়া এবং অন্যায়-অত্যাচারের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০১টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল মালয়েশিয়া।

সে সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে নিয়োগের আদেশ পেলেও, তা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তালিকাভুক্ত ওই ১০১ এজেন্সির যেকোনোটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালাতে হতো।

এমন নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতার অভাবের কারণে প্রক্রিয়াটি চরম সমালোচনার মুখে পড়ে।

পরে চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটিতে সফরে গেলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা এবং একটি সংশোধিত চুক্তি তৈরির জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয় দুই নেতা।

মালয়েশিয়া পরে জানায়, বিদেশী কর্মী নিয়োগে কোটার আবেদন এফডব্লিউসিএমএসের ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হবে।

এর মধ্যেই এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে নতুন করে রিক্রুটিং এজেন্সির নাম দেওয়া হলো। যদিও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো নতুন ব্যবস্থায় সমাধান হবে কি না—এমন উদ্বেগও শেষ হয়নি।

এর আগে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া ঘোষণা না করা পর্যন্ত চুক্তি সই, কর্মীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা কোনো টাকা যেন না নেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছিল যে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে যেকোনো ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বেআইনি বা অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল মন্ত্রণালয়।

এ অবস্থায় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি নির্দিষ্ট করা হলেও কর্মী নিয়োগ এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, চাকরির আদেশ কীভাবে বণ্টন করা হবে বা কর্মীরা কবে থেকে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি।

এজেন্সিগুলো হলো—বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অন্বেষা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-ত্বাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-সুপ্ত ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিংকু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিংক, নেইবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও দ্য অ্যাংকর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

এ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments