Thursday, October 22, 2026
Homeঅপরাধরংপুরে ঘর থেকে সাবেক স্কুলশিক্ষক, স্ত্রী ও ২ ছেলে-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

রংপুরে ঘর থেকে সাবেক স্কুলশিক্ষক, স্ত্রী ও ২ ছেলে-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

রংপুর নগরীতে তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।

স্থানীয়রা জানান, গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসর নেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী চলতি বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর করেন। আর ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে দিদির সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। ওইদিন রাত থেকে তাদের পরিবারের চারটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার রাতে মোবাইল বন্ধ পেয়ে আমরা রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় ছুটে আসি। বাড়ির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ ছিল এবং ভেতরের সব বৈদ্যুতিক বাতি নেভানো ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢুকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।’

তিনি বলেন, ‘কারা, কেন, কখন, কীভাবে আমার দিদিসহ তার পরিবারের সবাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সেটা বুঝতে পারছি না। আমার দিদির স্বামী খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। তারা দাসপাড়া এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছিলেন।’

গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি সোমা চক্রবর্তী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কাকার সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয়েছিল। শনিবার রাতে খবর পেয়ে এসে দেখি তার মরদেহ। সঙ্গে কাকিমা, বোন ও ভাইয়ের মরদেহও পড়ে আছে। আমার কাকার কোনো শত্রু ছিল না। তিনি স্কুল থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিও চিকিৎসক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন।’

ওসি নাজমুল কাদের বলেন, ‘পুলিশ, সিআইডি ও ডিবি তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই উদঘাটন করতে পারিনি।’

রংপুর মহানগর সিআইডির ইনচার্জ সুবীর চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। সাবেক স্কুলশিক্ষকের মরদেহ পাওয়া গেছে বাড়ির ছাদে এবং তার স্কুলশিক্ষার্থী ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে খাটের নিচে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে জানা যাবে কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’
 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments