Thursday, October 22, 2026
Homeঅপরাধচব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, সেটি ছিল ভবিষ্যতের ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল’।

আজ রোববার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, চব্বিশে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি। তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়। তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সাল দিতে হয়। এরা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সাল।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর তিনি মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ এবার পরিষ্কার হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি, বরং আবর্জনার কলেবর আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যায় না। ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সেই ফ্যাসিবাদী।

জামায়াত আমির আরও বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর যারা নির্যাতিত ছিলেন, তাদের কেউ এখন সরকারি দলে, আবার কেউ বিরোধীদলে রয়েছেন। তবে বিরোধীদলের দায়িত্ব সরকারকে অন্ধভাবে বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো করলে তাকে সহযোগিতা-সমর্থন করা আর সরকার যদি কোনো অন্যায় করে, জনগণের কোনো অধিকার হরণ করে অথবা খারাপ পথে হাঁটে, তাহলে সরকারকে বাধা দেওয়া, প্রতিবাদ করা—এটাই বিরোধীদলের দায়িত্ব।

সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে রাস্তায় হেঁটেছে, বর্তমান সরকার সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে।

‘এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এই রাস্তা ফ্যাসিবাদের রাস্তা। এই রাস্তা আয়নাঘরের রাস্তা। এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। এই রাস্তা শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার রাস্তা’, বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে এই পথে চলতে দেবে না। সুতরাং বিরত থাকুন।

অনুষ্ঠানে দেশের ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের কাছে একটি জাতির সম্মানের অন্যতম মানদণ্ড হচ্ছে তার ট্রাভেল ডকুমেন্ট বা পাসপোর্ট।

বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর পেছনে দেশের মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও দায়ী।

তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে বারবার ইতিহাস বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে এবং ক্ষমতায় আসা কেউই এ অপকর্ম থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেনি।

শফিকুর রহমান বলেন, মানুষকে ধরে নিয়ে বছরের পর বছর গুম করে রাখা, তাদের স্বজনদের অন্ধকারে রাখা এবং নির্যাতন চালানোর মতো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে।

তিনি সচেতন নাগরিকদের জুলাই জাদুঘর ও স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানান।

তবে ‘বিশেষ একটি দেশকে খুশি করার জন্য’ সেখানে অতীতের নির্যাতন ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির অনেক স্মৃতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments