Friday, July 24, 2026
Homeইংল্যান্ডের কৌশল ‘মাথায় ঢুকছে না’ মুলারের

ইংল্যান্ডের কৌশল ‘মাথায় ঢুকছে না’ মুলারের

ফুটবলে একটা পুরনো প্রবাদ আছে—‘আক্রমণই সেরা রক্ষণ’। কিন্তু বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চেও সেই চিরন্তন সত্যটা ভুলে বসল ইংল্যান্ড। আর তার চড়া মাশুল গুনে আরও একবার ভাঙল থ্রি লায়ন্সদের স্বপ্ন। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও ৭ মিনিটের ঝড়ে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে ইংলিশদের। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও এখন ফুটবলবিশ্বে বেশি আলোচনা চলছে ইংল্যান্ডের নেতিবাচক কৌশল নিয়ে। লিড নেওয়ার পর দলটির এমন অতি-রক্ষণাত্মক মানসিকতা দেখে রীতিমতো হতবাক জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি থমাস মুলার।

ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোল যখন ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়েছিল, তখন কে জানত পরের গল্পটা হবে স্রেফ আত্মহননের! গোল পাওয়ার পর যেন নিজেদের খোলসের মধ্যে গুটিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। আক্রমণ করার মানসিকতা পুরোপুরি বিসর্জন দিয়ে পুরো দলকে নিচে নামিয়ে রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। কোচ টমাস টুখেলের এই বিস্ময়কর কৌশলের সুযোগে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ আর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজের গোলে ম্যাচ বের করে নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

ইংল্যান্ডের এমন ম্যাচ বাঁচানোর কৌশল কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না থমাস মুলারের। ম্যাচ শেষে নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় ইংলিশদের ফুটবলীয় বুদ্ধিকে রীতিমতো কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। প্রকাশ করেছেন তীব্র বিস্ময়।

মুলার বলেন, ‘১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড যেভাবে এই ম্যাচটা খেলল, তা আমি ভাবতেই পারছি না। আমার মাথায় এটা ঢুকছেই না। আর্জেন্টিনাকে আপনি নিজে ডেকে এনে একের পর এক নিখুঁত ক্রস করার সুযোগ করে দিচ্ছেন! এটা অবিশ্বাস্য। এভাবে ম্যাচ জেতা যায় না।’

মুলারের এই বিস্ময় মোটেও অমূলক নয়। যখন প্রতিপক্ষ দলে লিওনেল মেসির মতো সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় থাকে, তখন রক্ষণভাগে বলের পর বল স্বাগত জানানো মানেই বিপদ ডেকে আনা। ইংল্যান্ড ঠিক সেই আত্মঘাতী ভুলটাই করেছে। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখার বদলে তারা মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয় প্রতিপক্ষের হাতে। আর নিখুঁত দুটি অ্যাসিস্টে সেই সুযোগের ষোলোআনা ব্যবহার করেছেন মেসি।

এই হারে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেল ইংল্যান্ডের। ফ্রান্সের সঙ্গে সান্ত্বনার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে লড়তে হবে তাদের। আর ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে সপ্তম বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখা আর্জেন্টিনা আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেনের।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments