Wednesday, April 29, 2026
Homeখেলাইতিহাস গড়ার পর ফাইনালে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

ইতিহাস গড়ার পর ফাইনালে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস লেখার পর এশিয়ান গেমসের হকি ইভেন্টের বাছাইপর্বে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশের নারীদের। বুধবার ইন্দোনেশিয়ার জিবিকে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ফেভারিট চাইনিজ তাইপেয়ের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। অথচ ম্যাচের শুরুতে লিড নিয়েছিল বাংলাদেশই।

জাপানে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শীর্ষ চারে থাকার লক্ষ্য নিয়ে জাকার্তায় গিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই আট জাতির এই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করাটা নারী জাতীয় দলের জন্য এক বিশাল সাফল্য। উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচ বছরেরও কম সময়ের পথচলায় এবারই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেয় দলটি।

গ্রুপ পর্বে আগের দেখায় চাইনিজ তাইপেকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল বাংলাদেশ, যা ৫-৫ গোলে ড্র হয়েছিল। তবে ফাইনালে অভিজ্ঞতার অভাব এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাল হয়ে দাঁড়ায়। এই একই প্রতিপক্ষের কাছে ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত নারী জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) এএইচএফ কাপেও হেরেছিল বাংলাদেশ।

নীল টার্ফে চমৎকার আক্রমণাত্মক হকি খেললেও অভিজ্ঞতার বিচারে ফাইনালে চাইনিজ তাইপেয়ের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে অর্পিতা পাল দলকে লিড এনে দেন। কিন্তু নড়বড়ে রক্ষণভাগের সুযোগ নিয়ে দ্রুত দুই গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরে আসে চাইনিজ তাইপে।

কাউন্টার-অ্যাটাক ও ট্রানজিশনের সময় অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষকে সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয় বাংলাদেশকে। হজম করা তিনটি গোলই আসে এমন পরিস্থিতি থেকে। বিশেষ করে, প্রথম দুই গোল হজমের ক্ষেত্রে ডিফেন্ডার নীলান্দ্রি বড়ুয়ার ভুলগুলোর বড় মাশুল দিতে হয়। মাঠে বলের দখল ও নিখুঁত পাসিংয়ে বাংলাদেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও স্ট্রাইকিং সার্কেলের ভেতরে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিল তারা। এছাড়া, পেনাল্টি কর্নারে বৈচিত্র্যের অভাব থাকায় চাইনিজ তাইপের পক্ষে নিজেদের রক্ষণ সামলানো সহজ হয়ে যায়।

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ওপেন প্লে থেকে সমতায় ফেরে চাইনিজ তাইপে। সার্কেলের ভেতরে নীলান্দ্রি বল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে লাই ইয়া-হানের পাস থেকে গোল করেন ওয়াং ইউ-কিউ। এরপর ৩২তম মিনিটে রক্ষণভাগের আরও একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে ফ্যান হুই-ইউনের সহায়তায় গোল করেন মাও ই-সুয়ান। কিছুক্ষণ বাদে ঝু ই-চুনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান আরও বাড়েনি।

৩৩তম মিনিটে গোলমুখের জটলার মধ্যে কনা আক্তার বল জালে পাঠালেও আম্পায়ার তা বাতিল করে দেন। সাত মিনিট পর মাওয়ের জোরাল শট থেকে হুয়াং ইউ-টিং গোল করলে চাইনিজ তাইপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments