Friday, May 1, 2026
Homeআন্তর্জাতিকইরানের জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিশোধের হুমকি তেহরানের

ইরানের জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিশোধের হুমকি তেহরানের

অবরোধ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ইরানের একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নির্ধারিত পূর্ণ মেয়াদ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও এখন হুমকির মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে চেয়েছিল, কিন্তু ইরান তাতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে থাকা দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের নৌ-অবরোধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে, অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের ওপর তাদের অবরোধ তুলে নেওয়ার পর পুনরায় তা কার্যকর করেছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে হয়ে থাকে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, গতকাল রোববার তারা বন্দর আব্বাসের দিকে যাওয়া ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলিবর্ষণ করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, জাহাজটি এখন পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে এবং এর ভেতরে কী আছে তা আমরা তল্লাশি করে দেখছি!

ইরানের দাবি, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে এক সামরিক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন বাহিনীর এই সশস্ত্র দস্যুতার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই পাল্টা জবাব দেবে।

এর পাশাপাশি তেহরান নতুন করে শান্তি আলোচনায় বসতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। চলমান অবরোধ, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিমূলক আচরণ এবং ওয়াশিংটনের বারবার অবস্থান পরিবর্তন ও অযৌক্তিক দাবি-দাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা।

ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদরেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, একদিকে ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা দেবেন আর অন্যদিকে অন্যদের জন্য নিঃশর্ত নিরাপত্তা আশা করবেন—তা হতে পারে না। সিদ্ধান্ত এখন স্পষ্ট—হয় সবার জন্য তেলের বাজার উন্মুক্ত থাকবে, নতুবা সবাইকে চড়া মাশুল দেওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে।

ট্রাম্প আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, তেহরান তার শর্ত না মানলে ইরানের সব সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়া হবে। পুরো যুদ্ধজুড়েই তিনি নিয়মিতভাবে এমন হুমকি দিয়ে চলেছেন। ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হলে তারাও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাবে।

যুদ্ধের খবরের এই অনিশ্চয়তার মধ্যে এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম এক লাফে ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ দশমিক ৮৫ ডলার হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ার বাজারের সূচকেও পতন দেখা গেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments