Thursday, October 22, 2026
Homeএবার দুই দিনেই বিব্রতকর রেকর্ড গড়ে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

এবার দুই দিনেই বিব্রতকর রেকর্ড গড়ে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ে উড়তে থাকা বাংলাদেশ ম্যাকাইতে ডুবল চরম হতাশায়। উজ্জ্বলতম পারফরম্যান্স থেকে চরম বিব্রতকর পরাজয়, কদিনের মধ্যেই পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখালো নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র দুই দিনে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। কোন ইনিংসেই একশো করতে না পারার বিব্রতকর রেকর্ডও গড়ল তারা। 

ম্যাকাইতে রোববার দ্বিতীয় টেস্টের শেষ সেশনের শুরতেই হয়ে যায় খেলার মীমাংসা। বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। 

প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে করল ৯৫ রান। টেস্টে কখনই দুই ইনিংসেই একশোর নিচে অলআউট হওয়ার রেকর্ড ছিলো না বাংলাদেশের। এবার সেই রেকর্ডে নাম উঠল।  অস্ট্রেলিয়া মাত্র ২১০ রান করেই জিতল ইনিংস ব্যবধানে। এত কম রান করে ইনিংস ব্যবধানে জেতার মাত্র তৃতীয় ঘটনা এটি। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে এটি দ্বিতীয় সংক্ষিপ্ততম টেস্ট, সব মিলিয়ে চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম। 

বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিতে ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে অজিদের নায়ক বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। 

প্রথম ইনিংসে ১২ রানে ৬ উইকেট পাওয়া স্টার্ক দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯ রানে নেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট করে নিয়েছেন প্যাট কামিন্স আর ন্যাথান লায়নও। 

বাংলাদেশের ইনিংসের দুই ব্যাটারই করতে পারেন দুই অঙ্কের ঘরে রান। সর্বোচ্চ ৩১ করেন অধিনায়ক শান্ত, ২৯ রানে অপরাজিত থেকে যান মুশফিক।

আগের দিন ৮ উইকেটে ১৬৫ থেকে ২১০ পর্যন্ত গিয়ে থামে অজিরা। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে রেকর্ডময় স্পেল করেন শরিফুল ইসলাম। তবে তার নৈপুণ্য গেল বিফলে। 

১৪৬ রানে পিছিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারেই আঘাত হানেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসের মতোই আউট হন সাদমান । স্টার্কের বল ফ্লিক করতে গিয়ে টপ এজড হয়ে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটার।

ঠিক পরের বলেই মুমিনুলের বিদায়। স্টার্কের ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়ে মহাভুল করেন মুমিনুল। মুহূর্তেই বেলস উপড়ে যেতে দেখেন তিনি।

প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম খানিক পরে বাজে শটে দেন ক্যাচ। পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হয়ে যাওয়ার পর প্যাট কামিন্সের বাউন্সারে অদ্ভুতুড়ে শটে ফাইন লেগে ধরা দেন তিনি। প্রথম টেস্টেও এমন বাজে শটে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়ে পরে সেঞ্চুরিতে রাঙিয়েছিলেন, এবার ভাগ্য তার পক্ষে থাকেনি।

শান্ত প্রথম সেশনে বাকিটা দারুণ কিছু শটে ছড়ান দ্যুতি, দেন বড় কিছুর আভাস। তবে লাঞ্চ থেকে ফিরে রান বের করতে বেশ ভুগছিলেন শান্ত-মুশফিক। বেশ আঁটসাঁট স্পেলে প্যাট কামিন্স আর ন্যাথান লায়ন মিলে জারি রাখেন চাপ। শান্ত বোধয় সেই চাপেই কাবু হয়ে থাকবেন। ক্রিজে নেমে শুরুতে যেভাবে রান বাড়াতে পারছিলেন, সেটা থমকে যাওয়ায় অস্থির হয়ে উঠেন তিনি। 

সেখান থেকেই মহাভুল। ম্যাচ পরিস্থিতিতে যেন ক্ষমার অযোগ্য। লায়নের বলে লফটেড শট খেলে ক্যাচ দেন মিড অফে। ৪৬ বলে তার ৩১ রানের ইনিংস থেমে যায়, ৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দলের উপর নেমে আসে প্রবল চাপ।

সেই চাপ কোথাও উড়িয়ে দেবেন, লিটন দাস নেমে বাড়ান অনেকটা। চোট কাটিয়ে স্কোয়াডে ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় কোন রানই করতে পারলেন না তিনি। 

সিরিজে টানা তৃতীয়বার শিকার হলেন স্টার্কের। ১০ বল খেলে কোন রান না করা লিটন বেরিয়ে যাওয়া বলে ক্যাচ দেন স্লিপে।

আগের টেস্টে চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তা দেখানো মেহেদী হাসান মিরাজ এবার  ব্যর্থ। অজি অধিনায়ক উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান খানিক পর। টেল এন্ডার হাসান মাহমুদও ডারউইনে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন, এবার পারেননি। কামিন্স তাকে শর্ট বল ফাঁদ বানিয়ে ফেরান দ্রুত। স্টার্ক তাইজুল ইসলামকে বোল্ড করে ম্যাচে তার ১০ উইকেট পুরো করে নেন।

৮২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে তখন ইনিংস হারের সামনে বাংলাদেশ। টেস্টে প্রথমবার দুই ইনিংসেই একশোর নিচে গুটিয়ে যাওয়ারও সামনে পড়ে যায় দল। এই বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্রিজে আঁকড়ে ছিলেন মুশফিক। 

চা-বিরতির পর ফিরেই লায়ন দ্রুত তাসকিন-শরিফুলকে তুলে শেষ করে দেন ম্যাচ ও সিরিজ। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments