Wednesday, April 29, 2026
Homeআন্তর্জাতিকএশিয়ার জলসীমায় ইরানের ৩ তেলবাহী জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর ধাওয়া

এশিয়ার জলসীমায় ইরানের ৩ তেলবাহী জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর ধাওয়া

এশিয়ার বিভিন্ন জলসীমায় অন্তত তিনটি ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজকে ধাওয়া দিয়ে সেগুলোকে ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি অবস্থান থেকে সরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্যের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। অপরদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঠেকাতে গুলি চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পরও অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতির মধ্যে শান্তি আলোচনার তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ব্যাহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি কার্গো জাহাজ ও একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

অন্যদিকে ইরানও বুধবার জানায়, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হতে চাওয়া দুটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এগুলো হলো, ডিপ সি, সেভিন ও ডোরেনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপ সি আংশিক তেল বোঝাই সুপারট্যাংকার, যেটি সর্বশেষ মালয়েশিয়ার উপকূলের কাছে শনাক্ত হয়। সেভিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার জাহাজ এবং ৬৫ শতাংশ তেল বোঝাই ছিল। ডোরেনা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই সুপারট্যাংকার এবং যাকে দক্ষিণ ভারতের উপকূলের কাছে দেখা যায়।

এ ছাড়া, ডেরিয়া নামের আরেকটি জাহাজও আটক হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ডোরেনা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করার পর ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর এক ডেস্ট্রয়ারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

তারা আরও জানায়, ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া ঠেকাতে শুরু করা অবরোধের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৯টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সামুদ্রিক এক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ভেতরে নয়, বরং খোলা সমুদ্রে ইরানি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যাতে ভাসমান মাইনের ঝুঁকি এড়ানো যায়।

মার্কিন সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments