Saturday, October 24, 2026
Homeকানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত করে ট্রাম্প জানালেন, ‘চুক্তি আসন্ন’

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত করে ট্রাম্প জানালেন, ‘চুক্তি আসন্ন’

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নিকটতম প্রতিবেশী কানাডার সঙ্গে শুল্ক-যুদ্ধে মেতে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুল্ক আরোপ, প্রত্যাহার, চুক্তি সইয়ের ঘোষণা, চুক্তি স্থগিত, আবারও শুল্ক আরোপের ঘোষণা—এই ধারা চলছে প্রায় দেড় বছর ধরে।

গত জুনে নতুন করে কানাডা থেকে বেশ কিছু পণ্য আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। 

আজ জানালেন, ওন্টারিও-ওয়াশিংটন চুক্তি আসন্ন। তাই তিন দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত করছেন তিনি।

আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

আজ থেকেই ওই নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ স্থগিত করেছি। আগামীকাল সকালে যে শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তা তিন দিনের জন্য স্থগিত থাকবে। এখন শুধু নথিপত্র চূড়ান্ত হওয়া বাকি।’

কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

গাড়ি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং কানাডার বেশ কয়েকটি প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রি নিষিদ্ধসহ কয়েকটি বিষয়ে দুই পক্ষ অচলাবস্থায় রয়েছে।

ট্রাম্প ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ সপ্তাহে দুইবার কথা বলেছেন।

ট্রাম্প জুলাই মাসে ১৯ আগস্টের সময়সীমা দিয়ে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সংশ্লিষ্টরা বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে দরকষাকষি অব্যাহত রেখেছে।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।

এটি একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প, যার বাস্তবায়নে কানাডার আলবার্টা রাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট ও গালফ কোস্ট এলাকার তেল পরিশোধনাগারগুলো সরাসরি যুক্ত হবে। ওবামা ও বাইডেন প্রশাসন এই উদ্যোগ বাতিল করেছিল।

পরিবেশবাদী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই পাইপলাইনের বিরোধিতা করে আসছে।

বাস্তবায়িত হলে এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৮ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে।

ট্রাম্প একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি এই প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করতে চান।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘মহান কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন, যেটিকে অনেক আগেই স্লিপি জো বাইডেন হত্যা করেছিলেন, হয়তো কবর থেকে জেগে উঠতে পারে!’

শুল্ক আরোপের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশেই স্বস্তি বয়ে এনেছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দেন, এই শুল্কে সবাই ক্ষতির শিকার হবে।

গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর দুই প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তিনি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত শুল্ক কর্মসূচি চালু করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি দেওয়া শুল্ক কানাডার বিভিন্ন আমদানি পণ্যের ওপর আরোপের কথা ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জাম।

এসব শুল্ক কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি এবং কাঠের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই আরোপ করা বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল।

কানাডা এমন একটি চুক্তির চেষ্টা করে আসছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করবে অথবা কমাবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কাছ থেকে বেশ কিছু ছাড় চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন গাড়ির ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার এবং দুগ্ধজাত পণ্যের কোটা পরিবর্তন করে মার্কিন পনির উৎপাদনকারীদের জন্য আরও বেশি বাজার উন্মুক্ত করা।

ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত বছর কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে মার্কিন মদ বিক্রির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, সেটিও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments