গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে ডুবে গেছে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতু।
আজ শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক অলক বিকাশ চাকমা।
তিনি বলেন, ‘উজানের পানি বেড়ে দুপুর ২টার দিকে ঝুলন্ত সেতুটির পাটাতন ৪ ইঞ্চি ডুবে গেছে। ইতোমধ্যে সেতুতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং টিকিট বিক্রিও বন্ধ রাখা হয়েছে।’
পানি কমে গেলে সেতুটি সংস্কার করে পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, কাচালং নদীর পানি বেড়ে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকার মধ্যে বাঘাইছড়ি পৌরসভাসহ উপজেলার আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়নও রয়েছে।
জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত দুইদিনে রাঙ্গামাটিতে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৩৮ মিলিমিটার ও শুক্রবার ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ ক্য চি নু মারমা।
প্লাবিত এলাকাগুলোর অবস্থা জানতে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে ইউএনও কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রিপন চাকমা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাঘাইছড়ি পৌরসভাসহ খেদারমারা, আমতলী ও সাজেক ইউনিয়নের কিছু কিছু জায়গা প্লাবিত হয়েছে। ঠিক কতগুলো গ্রাম প্লাবিত হয়েছে—আমরা এখনো সেই তালিকা করতে পারিনি।’
কাপ্তাই হ্রদের পানির চাপ কমাতে রাতে খোলা হবে বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট। বিকেলে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। কাপ্তাই বাঁধের সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য শনিবার রাত ১০টায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। এতে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বর্তমানে হ্রদের উচ্চতা, ইনফ্লো ও বৃষ্টিপাতসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত, পানির উচ্চতা এবং ইনফ্লোর তারতম্যের ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়া হতে পারে। ইনফ্লো বেশি হলে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

