Friday, May 1, 2026
Homeরাজনীতিজুলাই সনদ: ৭ বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা ১১ দলের

জুলাই সনদ: ৭ বিভাগীয় শহরে সমাবেশের ঘোষণা ১১ দলের

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সাত বিভাগীয় শহরে সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল ও ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি সম্পর্কে জানান কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে একটি মাত্র সমাবেশ রাখা হয়েছে। ঈদের পর জুন থেকে আবারও পুরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগীয় এসব সমাবেশে সংশ্লিষ্ট এলাকার সব জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, সমাবেশের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে।

ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জনমত তৈরি ও রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশবাসীর সমর্থন, সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ কামনা করেন।

এর আগে, ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল করে ১১ দলীয় জোট। ওই সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ২ মের পর বিভাগীয় পর্যায় ও বড় শহরগুলোতে অন্তত ১২টি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় সমাবেশ শেষে রাজধানীতে একটি ‘জাতীয় মহাসমাবেশ’ আয়োজন করা হবে।

জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী জোটটি ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে।

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এসব প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালনের কথা। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা হয়নি।

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সদস্যরা শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পরিষদ গঠন করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুযায়ী একটি মুলতবি প্রস্তাবের নোটিস দেন। পরে ওই প্রস্তাবে ‘প্রতিকার না পাওয়ার’ অভিযোগে ১ এপ্রিল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধীদল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments