Wednesday, April 29, 2026
Homeসারাদেশতফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে: বিরোধীদলীয় নেতা

তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে: বিরোধীদলীয় নেতা

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একজন ঋণ খেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

‘এখন আস্তে আস্তে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের’—বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে ‘পাহারাদারের ভূমিকা’ পালন করতে হবে।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশগুলো সংসদে আনা এবং চলমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ‘ভুল থেকে বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকার সংসদের প্রথম দিনে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আনা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মতি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং আলোচ্য সূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি ডিবেট হয় না, দুই মিনিটে কমেন্ট পাস করা যায়।’ পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে ‘লাখ লাখ কোটি টাকা’ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এসব অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রণীত উদ্যোগও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং জ্বালানির জন্য মানুষের ভোগান্তি বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

তার মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানা ফার্নেস অয়েলের অভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণেও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কার অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল, সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। ‘ভুল মানুষ করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে বের হয়ে আসতে হবে’—বলে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

এছাড়া জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দেশের চেয়ে দল বড়—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।’ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments