Sunday, October 25, 2026
Homeঅপরাধদেশে ফিরেছেন ২৪ জেলে, আরাকান আর্মির হাতে এখনো আটক ৮৬

দেশে ফিরেছেন ২৪ জেলে, আরাকান আর্মির হাতে এখনো আটক ৮৬

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ছয়জন রোহিঙ্গা।

আজ বুধবার বিজিবির একটি প্রতিনিধি দল নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মির কাছ থেকে জেলেদের গ্রহণ করে টেকনাফ জেটিতে নিয়ে আসে।

পরে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাদের পরিচয় যাচাই শুরু করে কর্তৃপক্ষ। পরিচয় যাচাইয়ের পর তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

বিজিবি-২ টেকনাফের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া আজ দুপুরের দিকে টেকনাফের বাংলাদেশ-মিয়ানমার ট্রানজিট জেটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আনিক চৌধুরী, বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নকীব তরফদার এবং টেকনাফ কোস্টগার্ডের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে ভুলবশত মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। পরে আরাকান আর্মি তাদের আটক করে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অথবা মিয়ানমারের কারাগারে নিয়ে যায়। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (এফডিএমএন) সম্প্রদায়ের কয়েকজন জেলেকেও আটক করা হয়।

এরপর থেকেই আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয় বিজিবি। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ ২৪ জেলেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে বিজিবির ওই কর্মকর্তা জানান।

বিজিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত আরাকান আর্মি মোট ৪৩৪ জন বাংলাদেশি ও এফডিএমএন জেলেকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২১২ জন এফডিএমএন সদস্য।

তারা জানান, এ পর্যন্ত ৩৪৮ জন জেলে বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে ১৫৭ জন বাংলাদেশি ও ১৯১ জন এফডিএমএন সদস্য। আরও ৮৬ জন জেলে এখনো দেশে ফেরেননি। তাদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ২১ জন এফডিএমএন সদস্য।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফ বলেন, আটক বাকি জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি জানায়, জেলেরা ফিরে আসায় তাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।

দেশে ফেরা জেলেদের একজন সাবরাংয়ের কোয়ানছড়িপাড়ার মোহাম্মদ শফিক জানান, তিনি প্রায় নয় মাস আরাকান আর্মির হাতে আটক ছিলেন। আরও পাঁচ জেলের সঙ্গে তিনি সেন্টমার্টিন দ্বীপের পূর্বদিকে সাগরে মাছ ধরতে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে আটক করে।

শফিক বলেন, ‘তারা আমাদের বলেছিল, তোমরা বাংলাদেশের জলসীমা পার হয়ে মিয়ানমারে ঢুকেছ, তাই তোমাদের গ্রেপ্তার করছি। সেখানে আমাদের নির্যাতন করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় সাত ঘণ্টা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হতো। কাজ করতে না চাইলে মারধর করতো। দিনে মাত্র একবার ভাত খেতে দিতো। অমানবিক পরিবেশে আমরা নয় মাস কাটিয়েছি। শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে পেরে আমি আনন্দিত। নয় মাস পর দেশে ফিরে বিজিবির কাছ থেকে খাবার পেয়ে প্রথমবারের মতো ভালোভাবে খেতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাসহ আরও অনেক জেলে সেখানে এখনো আটক রয়েছেন।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments