Saturday, July 25, 2026
Homeনিউইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা যায় কি না, আইনি ক্ষমতা খতিয়ে দেখছেন মামদানি

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা যায় কি না, আইনি ক্ষমতা খতিয়ে দেখছেন মামদানি

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন। সেখানে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।

চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ডেমোক্র্যাট নেতা।

আজ শনিবার এ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছেন মামদানি।

সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জায়গা দ্য হেগে হওয়া উচিত। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও (আইসিসি) অভিযোগ এনেছে। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই তার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।’

মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

তবে একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা তার আছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানান মামদানি।

তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটির আইন আমাকে যা করার অনুমতি দেবে, আমরা তাই করব। তবে এজন্য আমরা নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল সম্পর্কে মামদানির এই দৃষ্টিভঙ্গি এখন আর ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রান্তিক কোনো বিষয় নয়। চলতি সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলের জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। যদিও প্রস্তাবটি পাস হয়নি। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্রের প্রতি দলটির মনোভাব পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েল ইস্যুকে কেন এত গুরুত্ব দেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘গাজা যুদ্ধ পুরো দেশের ভোটারদের প্রভাবিত করছে। নিউইয়র্কে গত মাসে কংগ্রেস নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘গাজা ও ফিলিস্তিনের প্রতি আমাদের দেশ যে নীতিগত অবস্থান নিয়েছে, তার চেয়ে দেউলিয়া ও ব্যর্থ নীতি আর হতে পারে না।’

এর আগে গত বছর মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তিনি পুলিশ বিভাগকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। গাজা যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, সেটি কার্যকর করতে চান তিনি।

এর প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু উল্টো মামদানির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগ তোলেন।

শুধু তাই নয় গোপনে মামদানি যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করে, এমন দাবিও করেছেন নেতানিয়াহু।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মামদানি। একইসঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং নেতানিয়াহুর ভূমিকারও সমালোচনা করে আসছেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের মুক্তির প্রশ্নটি তার কাছে বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ইস্যু বলে উল্লেখ করে নিউইয়র্ক টাইমস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments