Friday, July 24, 2026
Homeপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ বিদেশ সফরে ইউক্রেনে স্টারমার

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ বিদেশ সফরে ইউক্রেনে স্টারমার

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করেন। তখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসন।

এরপর কেটে গেছে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময়। রুশ নেতা পুতিন এখনো তার আসন ধরে রাখলেও বরিস জনসন তা পারেননি। পারেননি তার উত্তরসূরি লিজ ট্রাস ও রিশি সুনাকও।

পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। তবে এবার স্টারমারেরও বিদায়ের পালা এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ বিদেশ সফরের জন্য ইউক্রেনকে বেছে নিয়েছেন স্যার কিয়ার স্টারমার। সফরে যাওয়ার আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আশ্বস্ত করে স্টারমার জানান, ‘ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের ইস্পাত-কঠিন সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বৃহস্পতিবার রাজধানী কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন স্টারমার।

আগামী সপ্তাহে লেবার পার্টির নেতা ও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন অ্যান্ডি বার্নাম। যার ফলে কার্যত এটাই প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের শেষ বিদেশ সফর।

সফরের আগে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার বলেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউক্রেনের জনগণের দৃঢ়তা ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষা করেছে।

বিবৃতিতে ডাউনিং স্ট্রিটে তার দুই বছরের মেয়াদকালে ইউক্রেনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় ব্রিটেনের অবদানের কথা তুলে ধরেন স্টারমার।

স্টারমার উল্লেখ করেন, এই সময়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে ১০০ বছরের অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের উদ্যোগেও নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

স্টারমার বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই বুঝেছিলাম, যুক্তরাজ্যের দায়িত্ব শুধু এই মুহূর্তে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশটির নিরাপত্তা ও সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করা।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধপ্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে।’

‘এই যাত্রায় আমরা অন্যদেরও সঙ্গে নিয়েছি। সাম্প্রতিক জি-৭ ও ন্যাটো সম্মেলনে আমরা দেখিয়েছি, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্ররা সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ’, যোগ করেন তিনি।

গত সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে জেলেনস্কি রাশিয়ার তীব্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারে গুরুত্ব দিতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেন। এর ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে কিয়েভকে রক্ষা করা সহজ হতে পারে।

ইতোমধ্যে বিএই সিস্টেমসের সঙ্গে ৬ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডের একটি চুক্তির আওতায় ব্রিটেনে তৈরি ১৫০টি কামানের ব্যারেলের প্রথম চালান ইউক্রেনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

স্টারমার বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য ব্রিটেন যা করেছে, তা নিয়ে আমি গর্বিত। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ইউক্রেনের প্রতি আমাদের ইস্পাত-কঠিন সমর্থন সব সময় অটুট থাকবে।’

এমন সময়ে এই সফর হচ্ছে, যখন রাশিয়া ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ক্রেমলিনের দাবি, তারা পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিক্যান্ট খালাসে ব্যবহৃত অবকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে।

বুধবার হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে ইউক্রেন ইস্যুতে স্টারমারের ভূমিকা এবং জেলেনস্কির সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক।

স্টারমারের উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নাম আগামীকাল শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

আগামী সোমবার তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments