Thursday, July 23, 2026
Homeঅপরাধবন্যার পানি কমলেও কমেনি দুর্ভোগ: মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জে ২১০ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

বন্যার পানি কমলেও কমেনি দুর্ভোগ: মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জে ২১০ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি স্থানীয় বাসিন্দাদের। মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনে দুই জেলার অন্তত ২১০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট মেরামত ও পুনর্নির্মাণে প্রাথমিক হিসাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন হবে।

মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর নদীভাঙনে কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, চার উপজেলায় প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পাকা, আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়ক পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও নদীর স্রোতে সড়কের অংশবিশেষ বিলীন হয়ে গেছে।

উপজেলাগুলোর বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় বেশ কিছু সেতু ও কালভার্টও ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকায় পানি পুরোপুরি না নামায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় এলজিইডি।

কমলগঞ্জের বাসিন্দা ধীরেন্দ্র দেবনাথ বলেন, ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জেও বানের পানিতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী জেলার প্রায় ১১৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধস, বড় গর্ত ও ভাঙনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জের বাসিন্দা খুরশেদ আলম বলেন, খোয়াই নদীর ভাঙনে সড়কের খুব খারাপ অবস্থা হয়েছে। চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। মানুষ এখন এই সড়ক এড়িয়ে দূরের অন্য পথ দিয়ে যাতায়াত করছে।

সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. ছালাহ উদ্দিন ও সোহরাব মিয়া বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যাত্রীরা এই পথে যেতে চান না, ফলে প্রতিদিন আয় কমছে। উল্টো গাড়ি মেরামতের পেছনে বাড়তি খরচ হচ্ছে।

পিকআপ চালক গোপাল দাস বলেন, পণ্য নিয়ে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বাড়ছে এবং অনেক বেশি সময় নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বাধীন মিয়া ও মিফতা মিয়া জানান, পানি নামলেও সড়ক ভাঙা থাকায় বাজারে যাওয়া, সন্তানদের স্কুলে পাঠানো কিংবা রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারে নিতে না পেরে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা দ্রুত গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে চিকিৎসা, শিক্ষা ও কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় স্থায়ী ক্ষতি তৈরি হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, জেলায় এলজিইডির প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামতে অন্তত ২৮ কোটি টাকা লাগবে। পানি পুরোপুরি নামলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।

এলজিইডি হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ১১৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে পুরোপুরি পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

 

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments