Friday, July 24, 2026
Homeববিতার স্বপ্ন

ববিতার স্বপ্ন

রূপালি পর্দায় অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছেন অভিনেত্রী ববিতা। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাঁর না আছে নতুন কোনো তারকাখ্যাতির চাওয়া, না আছে প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ। বরং হৃদয়ে লালন করছেন এক অন্যরকম স্বপ্ন। চার-পাঁচ বছর ধরে এই ইচ্ছা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি যশোরে গিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে এসেছেন কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী।

বেশ কয়েক বছর ধরে একটি স্বপ্ন দেখে আসছেন ববিতা। তার ভাষায়, ‘চার-পাঁচ বছর ধরে এই স্বপ্নটা দেখছি। সত্যি বলতে, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্নগুলোর একটি। এই স্বপ্ন বা ইচ্ছে পূরণ করতে পারলেই আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব।’

ববিতার দাদাবাড়ি যশোরের বিজয়নগরে। সেখানেই জড়িয়ে আছে তার শৈশবের অগণিত স্মৃতি। সম্প্রতি বড় বোন সুচন্দা ও ছোট বোন চম্পাকে নিয়ে যশোরে গিয়েছিলেন ববিতা।

ববিতা বলেন, ‘এবার দাদাবাড়িতে গিয়ে মসজিদের জন্য জমি দেখে এসেছি। জমি চূড়ান্ত করে এসেছি। এতে আমার খুব শান্তি লাগছে। মনে হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তা আমাকে একটি ভালো কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। আমি খুব সুন্দর করে একটি মসজিদ নির্মাণ করতে চাই।’

 

তিনি বলেন, ‘একদিন তো সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জন্ম হয়েছে, মৃত্যু একদিন হবেই। তাই চলে যাওয়ার আগে একটি ভালো কাজ করে যেতে চাই। খুব শিগগিরই মসজিদের নকশা করব। তারপর ধীরে ধীরে কাজ শুরু করব। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

কথা বলতে বলতে ফিরে গেলেন শৈশবের স্মৃতিতে। ববিতা বলেন, ‘আমার দাদাবাড়ি যশোরের বিজয়নগরে, আর নানাবাড়ি বালিয়াচরে। এবার সেখানে গিয়ে শুধু স্মৃতিই খুঁজে ফিরেছি। আমার সময়ের অনেকেই আর বেঁচে নেই। তাদের কথা খুব মনে পড়েছে।’

সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছে শৈশবের সঙ্গী কুলসুমের কথা।

‘কুলসুম আর আমি একসঙ্গে মাছ ধরতে যেতাম, খেলতাম, ঘুরে বেড়াতাম। এবার গিয়ে শুনলাম, সে আর বেঁচে নেই। খবরটা শুনে খুব মন খারাপ হয়েছে।’

যশোর সফরে আরেকটি বিষয় তাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে। বহু পুরোনো পরিচিত মানুষ তাকে ঘিরে ধরেছিলেন ভালোবাসায়।
ববিতা বলেন, ‘দাদাবাড়ি ও নানাবাড়িতে যাওয়ার পর কত মানুষ যে এসেছেন! সবাই জড়িয়ে ধরেছেন, ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। এই আনন্দ, এই শান্তি আর কোথায় পাব? কাছের মানুষের কাছে গেলেই এমন অনুভূতি পাওয়া যায়।’

 

কথার ফাঁকে স্মরণ করলেন ছোটবেলায় হারিয়ে যাওয়া বোন জেলির কথাও।

‘আমার এক বোন ছিল, নাম জেলি। সুচন্দা আপার পরেই ওর জন্ম। মাত্র চার বছর বয়সে ও মারা যায়। ওর কবর দাদাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে, যেখানে আমার দাদু-দাদিও শায়িত আছেন। এবার সেখানে গিয়ে ওর কথা খুব মনে পড়েছে। বেঁচে থাকলে সেও আজ অনেক বড় হতো।’

আগামী ৩০ জুলাই ববিতার জন্মদিন। এবারের জন্মদিন তিনি উদযাপন করবেন কানাডায়। তার একমাত্র ছেলে অনীক সেখানেই চাকরি করেন।

ববিতা বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছরই জন্মদিনটা ছেলের সঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করি। এবারও তাই করব। খুব শিগগিরই কানাডায় যাব। তারপর মা-ছেলে মিলে সময় কাটাব। ছেলে কী পরিকল্পনা করেছে, সেটা এখনো জানি না। সেখানে গিয়েই জানতে পারব।’

জীবনের এই সময়ে এসে নিজের সবচেয়ে বড় চাওয়ার কথা জানাতে গিয়ে ববিতা বলেন, ‘এখন আমার একটাই স্বপ্ন—মসজিদটা করে যেতে চাই। নিজেকে ভালো কাজের সঙ্গে রাখতে চাই। আল্লাহ যেন আমাকে এই স্বপ্ন পূরণের তৌফিক দেন।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments