Thursday, October 22, 2026
Home‘বাংলাদেশের মানুষ একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, আমি নই’

‘বাংলাদেশের মানুষ একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, আমি নই’

বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে কেউ আনন্দে লাফাতে দেখবেন না। খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ তিনি কিছুতেই করেন না। পেশাদার মানসিকতায় সব সময় নিরাবেগ একটা আবহে পাওয়া যায় তাকে। দ্বিতীয় টেস্টে নামার আগে পা মাটিতে রাখার ক্ষেত্রে নিজের এই মানসিকতার কথা নিজেই উচ্চারণ করলেন ক্যারিবিয়ান কোচ। জানালেন, এখানেই বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তার ফারাক।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাকায়ে দ্বিতীয় টেস্টে নামার আগে বাংলাদেশ দলকে আবেগের বাঁধ মানাতে বললেন সিমন্স। ডারউইনে প্রথম টেস্টে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল টাইগাররা। টেস্ট ইতিহাসে এটিকে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ঐতিহাসিক এই জয়ে দেশ-বিদেশের সমর্থক থেকে শুরু করে ক্রিকেটারদের মাঝেও আনন্দের জোয়ার ভেসেছিল, বিশ্ব ক্রিকেটের সবাই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিল তাঁদের।

অনুশীলন শেষে ৬৩ বছর বয়সী এই ট্রিনিডাদিয়ান কোচ সাংবাদিকদের বলেন, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশের মানুষ একটু বেশিই আবেগপ্রবণ, কিন্তু আমি একদমই তেমন নই। আমার জন্য অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হলেও ওদের জন্য বিষয়টা বেশ কঠিন।’

তবে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী সিমন্স, ‘আজ ওদের দেখে মনে হলো পরিস্থিতি কিছুটা থিতু হয়েছে। আসলে আমরা তিন দিনের মতো সময় পেয়েছি, তাই ছেলেরা বেশ গুছিয়ে উঠেছে। আশা করছি শনিবার সকালে নতুন করে ভালোভাবে সব শুরু করতে পারব।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচটি ভিন্ন দলের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে সিমন্সের। আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও দুই দফায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ কোচের মতে, ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর এই ঘটনা তার কোচিং জীবনের সেরা টেস্ট জয়।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ফরম্যাটে বড় জয় থাকলেও টেস্টের দিক থেকে এটিই আমার সেরা অর্জন। ছেলেদের শুধু একটা কথাই বলেছি, অস্ট্রেলিয়া এবার আরও শক্তিশালী হয়ে ব্যাকফুট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। তাই আমাদের পারফরম্যান্সের এই ধারা হয় ধরে রাখতে হবে, না হয় আরও একধাপ উন্নতি করতে হবে।’

গত সপ্তাহে মারারা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে দেওয়া বক্তব্যেও মূল কাজ এখনো বাকি বলে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের দিকেই সবার নজর ফেরাতে বলেছেন সিমন্স।

প্রথম টেস্ট জয়ের পর ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘কতটা বড় অর্জন এটি, তা হয়তো এখনই পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছ না। তবে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে পেছন ফিরে তাকালে বুঝতে পারবে এটিই তোমাদের জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। কারণ পাশের ড্রেসিংরুমের ওই দলটিকে হারানো মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়।’

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments