Friday, October 23, 2026
Homeবাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ের উইকেটের আচরণ কেমন?

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ের উইকেটের আচরণ কেমন?

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইতে এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট ম্যাচ হয়নি। এই মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম শ্রেণির ম্যাচের সংখ্যাও হাতেগোণা— মাত্র পাঁচটি। ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, পিচের আচরণ ছিল পেসবান্ধব। পেস বোলাররা সেখানে স্পিন বোলারদের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি উইকেট পেয়েছেন।

ডারউইন টেস্ট জিতে ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবারের মতো টেস্ট হারানোর স্বাদ পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এবার তাদের সামনে আরও বড় কিছুর হাতছানি। ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার অ্যারেনায় আগামী শনিবার থেকে শুরু হওয়া টেস্ট জিতলে বা ড্র করলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের আনন্দে মাতবে টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বাদশ টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হতে যাওয়া ম্যাকাইয়ের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে। সেই প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ২৭৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল কুইন্সল্যান্ডের কাছে। এরপর এই মাঠে লাল বলের ক্রিকেট ফেরার অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ ২০ বছরের।

ম্যাকাইতে স্বাগতিক হিসেবে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট শেফিল্ড শিল্ডের দুটি ম্যাচ খেলেছে কুইন্সল্যান্ড— ২০১৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের অক্টোবরে। বাকি দুটি ম্যাচ ছিল অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে গোলাপি বলের দিবা-রাত্রির ম্যাচ খেলেছিল তারা।

আর এই মাঠের সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দল ৭ উইকেটে হারিয়েছিল ভারত ‘এ’ দলকে। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে দুটি টেস্ট খেলা পেসার ব্রেন্ডন ডগেট প্রথম ইনিংসে স্রেফ ১৫ রান খরচায় শিকার করেছিলেন ৬ উইকেট।

ম্যাকাইয়ের এই পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে পেসাররা দেখিয়েছেন দাপট। তারা ২৩.৬৭ গড়ে নিয়েছেন ১২২ উইকেট। অন্যদিকে, স্পিনাররা ৩১.৭৬ গড়ে পেয়েছেন ৫০ উইকেট। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় উইকেট প্রাপ্তির হিসাবে সবচেয়ে সফল বোলার মাইকেল ক্যাসপ্রোভিচ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৮ টেস্ট, ৪৩ ওয়ানডে ও ২ টি-টোয়েন্টি খেলা সাবেক এই পেসার ৭.৯১ গড়ে শিকার করেছেন ১২ উইকেট।

ভেন্যুটিতে গড়ে প্রথম ইনিংসে রান হয়েছে ২৫৭। টস জিতে শতকরা ৬০ ভাগ ম্যাচে (তিনটি) অধিনায়করা বেছে নিয়েছেন ব্যাটিং। আর ৮০ শতাংশ ম্যাচে (চারটি) টসজয়ী দলই ম্যাচজয়ী হয়েছে।

টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ম্যাকাইয়ে ওয়ানডে হয়েছে তিনটি— অভিষেক ঘটেছিল ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তবে বৃষ্টির বাগড়ায় ভারত-শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপের ম্যাচটি শেষমেশ পণ্ড হয়েছিল। এরপর ৩৩ বছরের লম্বা অপেক্ষার ইতি টেনে সেখানে আবার ওয়ানডে গড়ায় ২০২৫ সালের আগস্টে। তখন দক্ষিণ আফ্রিকাকে দুটি ম্যাচে মোকাবিলা করেছিল অস্ট্রেলিয়া।

প্রায় এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে ম্যাকাইতে। বাংলাদেশ কি পারবে ডারউইন টেস্টের রেশ ধরে রেখে নতুন কোনো রূপকথা লিখতে?

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments