Saturday, July 25, 2026
Homeবাবাকে আজও ভীষণ মিস করি: ঐন্দ্রিলা

বাবাকে আজও ভীষণ মিস করি: ঐন্দ্রিলা

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু নাম কখনোই ম্লান হয়ে যাবে না। তাদেরই একজন নায়ক বুলবুল আহমেদ। দেবদাস সিনেমাতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন ‘দেবদাস’ পরিচয়, আর মহানায়ক চলচ্চিত্রের পর দর্শকের মুখে মুখে হয়ে ওঠেন ‘মহানায়ক’।

গতকাল ১৫ জুলাই এই কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণদিবস। তাকে ঘিরে স্মৃতির ঝাঁপি খুলেছেন তার মেয়ে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ফিরে যান শৈশব, অভিনয়জীবন ও বাবাকে ঘিরে অসংখ্য স্মৃতিতে।

ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘বাবাকে খুব মিস করি। কিছুদিন ধরে তাকে ভীষণ মনে পড়ছে। বাবার কথা ভাবলেই চোখে পানি চলে আসে। প্রিয় মানুষ হারানোর পরই বোঝা যায়, সেই শূন্যতা কতটা গভীর, কতটা কষ্টের। বাবাকে নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না।’

শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবার সঙ্গে অসংখ্যবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়েছি। রামপুরার বিটিভি ভবন আর এফডিসি ছিল আমার কাছে যেন খেলার জায়গা। জীবনের প্রথমবার এফডিসিতেও বাবার হাত ধরেই যাওয়া। ছোটবেলায় এতবার সেখানে গেছি যে, প্রতিটি জায়গার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য স্মৃতি।’

সংগীত ও অভিনয়জীবনের শুরুতেও বাবার অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘গরম হাওয়া সিনেমায় সৈয়দ আবদুল হাদী চাচার সঙ্গে প্রথম প্লেব্যাক করার সুযোগ পেয়েছিলাম বাবার কারণেই। পরে আকর্ষণ সিনেমাতেও প্লেব্যাক করেছি। আরও অনেক সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছি, ডাবিং করেছি। সবকিছুর পেছনেই ছিল বাবার উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবার পরিচালনায় একাধিক নাটকে অভিনয় করেছি। সহশিল্পী হিসেবেও তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকের নানা কাজেও তাকে সহযোগিতা করতাম। এভাবেই তার কাছ থেকেই শেখা আমার অভিনয়ের প্রথম পাঠ।’

বাবার প্রিয় পাঁচটি চলচ্চিত্রের কথা জানতে চাইলে ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘বাবার সব সিনেমাই আমার প্রিয়। তবে যদি পাঁচটির নাম বলতে হয়, তাহলে প্রথমেই বলব সীমানা পেরিয়ে। পরিবারের সবাই মিলে হলে গিয়ে দেখেছিলাম, এখনও বহুবার দেখি। এরপর রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত, দেবদাস, মহানায়ক ও সূর্যকন্যা। এই পাঁচটিতে বাবার অভিনয় অসাধারণ লেগেছে। দেবদাস ছবি তাকে এনে দিয়েছিল বিপুল খ্যাতি, আর মহানায়ক ছবির পর দর্শকরাই তাকে মহানায়ক নামে ডাকতে শুরু করেন।’

আজও বাবার কাজ তাদের পরিবারের নিত্যসঙ্গী জানিয়ে ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘এখনও বাবার সিনেমা ও নাটক দেখি। আমার সন্তানরাও তাদের নানাভাইয়ের সিনেমা দেখে গর্ব করে। তারা জানে, তাদের নানাভাই শুধু একজন নায়ক নন, তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের একজন অসাধারণ শিল্পী।’

সবশেষে বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান ঐন্দ্রিলা। তার ভাষায়, ‘সবাই বাবার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন এবং তার আত্মাকে শান্তিতে রাখেন।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments