২০২৬ বিশ্বকাপে টানা লড়াই শেষে অবশেষে বাধ্যতামূলক বিশ্রামে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। বিশ্রামে যাচ্ছেন তার সতীর্থ রদ্রিগো দে পলও। আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনাল পর্যন্ত খেলার পর ইন্টার মায়ামির এই দুই তারকা আপাতত মাঠের বাইরে থাকবেন। ফলে এমএলএসের দুটি ম্যাচের পাশাপাশি অল-স্টার ম্যাচেও দেখা যাবে না তাদের।
ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ শেষে পুনরুদ্ধারের (রিকভারি) জন্য মেসি ও দে পলকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়সহ পুরো ১২০ মিনিট খেলেন মেসি। যদিও ১-০ গোলে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা, তবু আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে দুর্দান্ত এক টুর্নামেন্ট শেষ করেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এর ফলে শিকাগো ফায়ার ও সিএফ মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে এমএলএসের দুটি ম্যাচ এবং আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এমএলএস অল-স্টার ম্যাচে খেলবেন না মেসি। একই কারণে বিশ্রামে থাকবেন দে পলও।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রোর সুপারিশের পর। ২০২৫ সালে ফিফা ও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিদের বৈঠকে মৌসুম শেষে খেলোয়াড়দের জন্য অন্তত ২১ দিনের বিশ্রাম নিশ্চিত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। পাশাপাশি দুই ম্যাচের মধ্যে কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা বিরতি রাখার বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা হয়।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক ম্যাচ সূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিটি মৌসুম শেষে অন্তত ২১ দিনের ছুটি এবং ম্যাচের মধ্যে কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টার বিরতি থাকা উচিত। ক্লাব ও খেলোয়াড়ের সূচি অনুযায়ী এই সময়সূচি পরিচালিত হবে।’
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও ইতিহাসে নতুন এক কীর্তি গড়েছেন মেসি। তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনটি আলাদা বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরুর একাদশে খেলেছেন। টুর্নামেন্ট শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘এই কষ্ট অনেক বড়, এই ক্ষত সারতে সময় লাগবে। তবে ভালো স্মৃতিগুলোও সঙ্গে থাকবে। যেসব ম্যাচে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, দলের লড়াই, পুরো দেশের সমর্থন, সবকিছু আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছে।’
স্পেনকে অভিনন্দন জানিয়ে মেসি আরও লেখেন, ‘সব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমরা আবারও একটি জাতিকে একত্র করতে পেরেছি। স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য অভিনন্দন।’

