Wednesday, July 22, 2026
Homeঅপরাধবীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনস্থাপনের স্থান নির্বাচনে কমিটি গঠন

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনস্থাপনের স্থান নির্বাচনে কমিটি গঠন

ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর অপসারণ কাজ স্থগিত করে পুনরায় উপযুক্ত স্থানে পুনস্থাপনের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

আজ বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা শেষে চত্বরটি পুনস্থাপনের লক্ষ্যে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জন্য ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুনস্থাপনের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আজ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা শেষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কমিটিতে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, সাংবাদিক নেতাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।’

এই কমিটি প্রতিবেদন দিলে তাদের নির্বাচিত স্থানে জেলা পরিষদের অর্থায়নের পূর্ণ মর্যাদায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল সম্প্রতি। এ নিয়ে গত ১৬ জুলাই দ্য ডেইলি স্টারে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ১৮ জুলাই থেকে এটি ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন।

১৩ জুলাই থেকে চত্বরটি ভাঙার কাজ চললেও কার নির্দেশে তা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ। ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশ্যে শ্রমিকরা চত্বরটি ভাঙার কাজ করলেও কারা, কেন এটি ভাঙছে, সে বিষয়ে কোনো তদন্ত করেনি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত ১৯ জুলাই জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের আগে আমি জানতাম না এটা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর বা ভাস্কর্য। আকার-আকৃতি দেখেও বোঝার উপায় ছিল না। চত্বরটি নির্মাণকাজ শুরুর পরপরই স্থানীয়দের আপত্তির মুখে কাজ স্থগিত রাখা হয় বলে জানতে পেরেছি। তবে ভাস্কর্যটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের, এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি ভাঙার কাজ স্থগিত করেছি।’

এ বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ‘অতীতের কোনো কথাতে আর যেতে চাই না, এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্যও করব না। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহের শ্রেষ্ঠ সন্তান, তিনি সারা দেশের গর্ব। নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামত নিয়ে উপযুক্ত স্থানে যথাযথ মর্যাদায় তার একটি পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের শহরের প্রবেশমুখে ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

চত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি বিমূর্ত আবক্ষ ভাস্কর্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসেবে মুষ্টিবদ্ধ হাতের একটি সিমেন্টের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, চত্বরটির উচ্চতার কারণে চারমুখী মোড়ে যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ কারণে নির্মাণকাজ শেষ না করেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর অসমাপ্ত অবস্থায় চত্বরটি দীর্ঘদিন পড়েছিল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments