Friday, July 24, 2026
Homeঅপরাধব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ‘কানে কামড়’: বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ‘কানে কামড়’: বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মারধর, চাঁদা দাবি এবং কানে কামড়ে জখম করার অভিযোগে ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেসার্স সজীব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় মামলাটি করেন। এতে মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন জামাল (৪১), জনি (৩২), আনোয়ার (৪৩), শফিক (৩৭), আমিনুল (৪০), সোহেল (৩৮), জুয়েল (৩৫), মানিক (৪০), রায়হান (৩৪) ও রিজন (৩৭)। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন আজ বুধবার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সজীব মিয়া একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে বালু, ইট ও রড সরবরাহের কাজ পান। এ কাজের অংশ হিসেবে তিনি সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় কাজের দায়িত্ব দেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ জুলাই বিকেলে ঘোড়াশালের টেকপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলসের ভেতরে নদীর তীরে ড্রেজার মেশিন স্থাপনের কাজ চলাকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাখাওয়াত হোসেনের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময় ড্রেজার মেশিনের পাইপ ভাঙচুর করে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরে সাখাওয়াত হোসেনকে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়ির উঠানে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মহিউদ্দিন তার কানে কামড়ে জখম করেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দক্ষিণ চরপাড়া এলাকার একটি সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এর আগে আহত সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, ড্রেজার বসানোর কাজ নিয়ে তাকে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে এক ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং মহিউদ্দিন তার কানে কামড় দেন। এতে তার কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, তিনি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত আছেন এবং পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন।
 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments