Friday, July 24, 2026
Homeঅপরাধমৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল পাস

মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল পাস

সাইবার মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক চোরাকারবারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে পাস হয়েছে।

আজ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত বিলে প্রযুক্তিনির্ভর মাদক-সংক্রান্ত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না।

এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

বিলে আদালত বা মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালকে এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস, অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, বাজেয়াপ্ত, অপসারণ বা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, মাদকপ্রবণ এলাকায় স্বতন্ত্র মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত আদালতে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।

বিলের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ডগ স্কোয়াড গঠন এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বীকার করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

নিয়ম অনুযায়ী এখন বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সই করলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ পাস হয়। ওই আইনে ২০০ গ্রামের বেশি ইয়াবা অথবা ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন বা কোকেন বহনের দায়ে দোষী ব্যক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments