Friday, July 24, 2026
Homeঅপরাধযশোরে যুবদল নেতা হত্যা: জানাজা শেষে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

যশোরে যুবদল নেতা হত্যা: জানাজা শেষে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন

যশোরের বাঘারপাড়ায় স্থানীয় যুবদল নেতা রুবেল হোসেন (৩৮) হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গতকাল সোমবার বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে রাতে নিহত রুবেলের জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কের খাজুরা পেট্রোল পাম্পের কাছে আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বিক্ষোভ চলে।

এরপর একদল বিক্ষোভকারী তেলীধান্যপুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও প্রধান অভিযুক্ত রাব্বির (২২) বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

এর আগে গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে খাজুরা পেট্রোল পাম্পের সামনে রুবেলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত রুবেল বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মৃত মোনতাজ ঢালীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে রুবেল পেট্রোল পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় রাব্বি ও তার সঙ্গে থাকা আরও তিন থেকে চার তরুণ রুবেলের পথরোধ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাব্বি রুবেলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত রুবেলকে দুপুর ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রুবেলের মৃত্যু হয়েছিল। তার বুক ও গলায় গুরুতর জখম ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে রাতে পুলিশ নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

রুবেলের মা ফিরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে রাব্বি ও স্থানীয় কয়েকজন তরুণ তেলীধান্যপুড়া উলুমুল হাফেজিয়া কুরআন মাদরাসার মাঠে আড্ডা দিচ্ছিল। মাদরাসার শিক্ষক তাদের সেখানে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে রাব্বি তাকে হুমকি দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে রুবেল রাব্বিকে একটা চড় মেরেছিল। এরপর থেকেই রাব্বি প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেই ক্ষোভ থেকেই রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের বুক, পিঠ ও মুখে আঘাত করে তাকে হত্যা করেছে।

রুবেলের ভাই রাজীব হোসেন দাবি করেন, হামলার সময় রাব্বির সঙ্গে আরও কয়েকজন তরুণ দুটি বা তিনটি মোটরসাইকেলে এসে যোগ দিয়েছিল।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পরে রাতে খাজুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রুবেলকে দাফন করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments