Friday, May 1, 2026
Homeআন্তর্জাতিকশান্তিতে নোবেল মনোনয়ন তালিকায় কেন ট্রাম্প, প্রস্তাব কাদের

শান্তিতে নোবেল মনোনয়ন তালিকায় কেন ট্রাম্প, প্রস্তাব কাদের

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য ২৮৭ প্রার্থীকে বিবেচনা করা হবে এবং এ তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব ক্রিশ্চিয়ান বার্গ হার্পভিকেন এ কথা জানিয়েছেন বলে আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

হার্পভিকেন বলেন, এ বছর ২০৮ ব্যক্তি ও ৭৯ সংস্থাসহ মোট ২৮৭ জনকে মনোনয়ন তালিকায় রাখা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার অনেক নতুন মনোনীত ব্যক্তি রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংকটের কারণে এই পুরস্কারের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তাতে শান্তি পুরস্কার আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

গত ৩১ জানুয়ারি ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এই ডেডলাইনের মধ্যে মনোনয়ন জমা পড়লে তা বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার নেতারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন।

যদিও ট্রাম্পের মনোনয়নের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা বলতে রাজি হননি।

নোবেল কমিটি মনোনয়নের নাম ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখে। একইসঙ্গে কারও নাম প্রস্তাব বা মনোনয়ন দেওয়া মানেই তা নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে সমর্থন পাওয়া নয়।

ইসরায়েল ও পাকিস্তান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার পর সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক টম নাগোরস্কি টাইম ম্যাগাজিনে লেখা এক প্রবন্ধে একে ‘তোষামোদ কূটনীতি’ বলে বর্ণনা করেছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়াও ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিন বলছে, সম্প্রতি কম্বোডিয়া ও পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ডের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতা করে এবং একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়। মূলত এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত গত ৭ আগস্ট নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিকে দেওয়া একটি চিঠিতে লিখেছেন, ‘বিশ্বের অস্থির অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের ভূমিকা অনন্য। শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য এই মনোনয়ন কম্বোডিয়ার জনগণের কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন।’

তবে যুদ্ধবিরতিই একমাত্র কারণ নয়। শুল্ক ছাড়, চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং কূটনৈতিকভাবে সুবিধা পাওয়াও ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেওয়ার কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে টাইম।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির বৈশ্বিক রাজনৈতিক অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক সোফাল ইয়ার, একে ‘কম খরচে বহুল প্রচারিত পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের পণ্যের ওপর ধার্য করা ৩৬ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করার ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

এ বিষয়ে কম্বোডিয়ান সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক রাক্সমে হিম বলেন, ‘এই ঘটনা এবং এর পরবর্তীতে নোবেল নিয়ে তৈরি হওয়া উন্মাদনা কম্বোডিয়াকে ট্রাম্পের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিল।’

সিঙ্গাপুরের গবেষণা সংস্থা ‘ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউট’ এর ভিজিটিং ফেলো পল চেম্বার্স টাইমকে বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শীতল সম্পর্ককে উষ্ণ করার চেষ্টা করছে কম্বোডিয়া।’

কম্বোডিয়ার রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব নমপেনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষক চানদারিথ নেক ও ছায় লিম একে ‘নির্ভরশীলতায় বৈচিত্র্য আনার জন্য একটি কৌশলগত নমনীয়তা নীতি’ বলে অভিহিত করেছেন।  

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেটিং সাইটসহ বিভিন্ন মহলে আরও অনেকের নাম শান্তিতে নোবেল পাওয়ার জন্য আলোচনায় রয়েছে।

তারা হলেন, রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া, পোপ লিও এবং সুদানের স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’।

আলাস্কার মার্কিন সিনেটর লিসা মুরকোস্কি এবং ডেনিশ পার্লামেন্ট সদস্য আজা চেমনিৎজকেও মনোনীত করা হয়েছে।

আর্কটিক অঞ্চলে শান্তি ও আস্থা বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার জন্য তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আগ্রহের কারণে এই মনোনয়নটি এ বছর বিশেষ আলোচনায় রয়েছে।

আগামী ৯ অক্টোবর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে ১০ ডিসেম্বর।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments