Thursday, July 23, 2026
Homeঅপরাধশেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টায় কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সেইসঙ্গে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রাসঙ্গিক নয় বলেও মনে করছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বলছেন এবং সময়ের উল্লেখ করেছেন। তাহলে তাকে ফেরাতে বাধা কোথায়—এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের আদালত একজনকে সাজা দিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি যিনি বাংলাদেশে বহু অন্যায়, অত্যাচার, অপকর্ম করে বিদেশে পালিয়ে আছেন। শেখ হাসিনা কী বলছে না বলছে এখানে তার বক্তব্য একেবারেই প্রাসঙ্গিক নয়।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে, এখনো সেই ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে সেটা চলমান আছে। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বা একজন আসামিকে ফেরত আনার ক্ষেত্রে যে প্রটোকল ও নিয়মকানুন আছে, সে অনুযায়ী তাকে এনে এখানে বিচার করা হবে। সেটাই তো মনে হয় বাংলাদেশের জনগণ চায়।’

তিনি বলেন, ‘এখানে যে অন্যায়গুলো হয়েছে, যে দুর্নীতি হয়েছে, খুন, গুম হয়েছে—সেগুলোর একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে। ভারত সরকারের সঙ্গে সেই প্রক্রিয়া চলমান আছে, সেটা আমরা আগেই বলেছি। এখন যিনি আসামি তার বক্তব্যটা এখানে রেলেভেন্ট না।’

প্রায় ৫ মাস হয়ে যাচ্ছে, এখনো শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি নেই, এখানে কোনো ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘না, এটা সময় লাগে। প্রক্রিয়া চলমান আছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়, তার মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে, নতুন সরকার গঠন হয়েছে। সরকার আসার পর প্রক্রিয়াটি আবার সচল হয়েছে। প্রক্রিয়ায় সময় লাগে, সেটা চলমান আছে। এখানে কূটনীতির কোনো ঘাটতি নেই।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনাদের মনে রাখতে হবে, এটা শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও বিষয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এটা নিয়ে কাজ করছে।’

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জটি কী? ভারতের সহযোগিতা সরকার পাচ্ছে কিনা, আইনি কোনো জটিলতা আছে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আইনি জটিলতা আছে কি নাই, সেটা আমাদের আইন মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুঁটিয়ে দেখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের যে প্রক্রিয়া চালানো দরকার, সে প্রক্রিয়া আমরা চালাচ্ছি, সেটাতে কোনো ঘাটতি আমি দেখছি না।’

গঙ্গার পানি ভাগাভাগি-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ চুক্তির নবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।’

তিনি বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হচ্ছে। সব আলোচনা দৃশ্যমান নয়। আলোচনা চলতে থাকে। আমি বিশ্বাস করি, দ্বিপাক্ষিক যে আলোচনা চলছে, গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব এবং পানির গুরুত্ব বুঝতে পারছে ভারত। সেটা বিবেচনায় রেখে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কটা যেন কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখে ভারত সিদ্ধান্ত নেবে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটা ইতিবাচক দিকে এগুচ্ছে। গঙ্গাচুক্তির বেশি সময় নেই। আমাদের যে টিম (যৌথ নদী কমিশন-জেআরসি) প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছেন, সেই কমিটি কাজ করছে ভারতের সঙ্গে।’

ইতিবাচক দিকে এগোনোর ব্যাখ্যায় শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটা ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। আমি আশা করছি, ভারত গঙ্গাচুক্তির গুরুত্ব বুঝবে এবং সেভাবে তারা এগিয়ে আসবেন।’

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে রদবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘একটি চলমান প্রক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হবে, নতুন দায়িত্বে নতুন ব্যক্তিরা আসবেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন ও রদবদল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তখনই সবাই জানতে পারবেন কোথায়, কেন এবং কী কারণে রদবদল করা হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’

রদবদলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষতা, যোগ্যতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতা। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং ব্যক্তির যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় রদবদল করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রদবদল প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সরকার থেকে গেজেট প্রকাশের পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments