Thursday, July 23, 2026
Homeঅপরাধসাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি কমলেও বান্দরবানে দুর্ভোগ কাটেনি

সাঙ্গু-মাতামুহুরীর পানি কমলেও বান্দরবানে দুর্ভোগ কাটেনি

টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পর শনিবার দুপুর থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমায় বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি নামতে শুরু করেছে। এতে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও জেলার সার্বিক পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। অনেক এলাকায় পানি কমলেও নতুন কিছু এলাকা এখনো প্লাবিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ২৯টি বন্যাকবলিত হয়েছে। পাঁচ শতাধিক পাড়ার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এক লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে থানচি, রুমা, রোয়াংছড়ি, সদর, লামা ও আলীকদম উপজেলা।

জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি। নদীর পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনো ঘরে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

শনিবার দুপুরের পর ভারী বৃষ্টি কমে যাওয়ায় সাঙ্গু নদীর পানি প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট কমেছে। তবে সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সাঙ্গু নদীর পানি ১৫ দশমিক ৫৭ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা এখনো বিপৎসীমার ওপরে। মাতামুহুরী নদীর পানি ১১ দশমিক ৫৫ মিটারে নেমে এসেছে, যা বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচে।

বন্যার কারণে জেলা শহরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার এবং বান্দরবানের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। অনেক এলাকায় নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

নদীর পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে বন্যা ও পাহাড়ধসের শঙ্কা এখনো কাটেনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments