Friday, October 23, 2026
Homeঅপরাধ৪ জেলা থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেনের প্রস্তাব

৪ জেলা থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ট্রেনের প্রস্তাব

মহানগর এক্সপ্রেসের রুট ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। গত ১৭ আগস্ট রেলভবনে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর যাত্রীরা ট্রেন পরিবর্তন ছাড়াই সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭২১ ও ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা ছাড়বে এবং ভোর ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। ফিরতি ট্রেনটি সকাল ৯টায় কক্সবাজার ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে।

মহানগর এক্সপ্রেসের বিশেষত্ব হলো—ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বর্তমানে চলাচলরত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের তুলনায় এর যাত্রাপথে বেশি স্টপেজ রয়েছে। ট্রেনটি নরসিংদী, ভৈরব, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও কুমিরায় যাত্রাবিরতি করে।

ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি এসব স্টেশন থেকেও যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন। বিশেষ করে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ফেনীর সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি রেল যোগাযোগ তৈরি হবে।

দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয় কক্সবাজার। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রবাল ও সৈকত ট্রেন চলাচল করছে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস মূলত বিরতিহীন, শুধু চট্টগ্রাম জংশনে যাত্রাবিরতি করে।

রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ জানায়, এই রুটে প্রতিদিন ১০ থেকে ১১ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।

এই রুটে নিয়মিত যাতায়াতকারী ও কক্সবাজারের একটি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি নিয়মিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাতায়াত করি। বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী দুটি ট্রেনেই নন-এসি কোচ রয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিত হলে যাত্রীরা এসি কেবিন ও এসি কোচে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন, যা ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উপপ্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, ঢাকা-কক্সবাজার রুটটি রেলওয়ের জন্য লাভজনক। বর্তমানে ট্রেনগুলোতে আসন পূর্ণ থাকে এবং এ রুটে আরও টিকিটের চাহিদা রয়েছে। মহানগরের রুট বর্ধিত হলে যাত্রীদের সুবিধার পাশাপাশি রেলওয়ের রাজস্বও বাড়বে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস) শফিকুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেস চালাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

‘রুট সম্প্রসারণের প্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজারে ট্রেনের ওয়াশ ও সার্ভিসিং সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে দৈনিক ওয়াশিংয়ের জন্য অস্থায়ী সুবিধা রয়েছে। তবে সাপ্তাহিক ওয়াশ ও সার্ভিসিংয়ের জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরি করতে হবে’, বলেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, কক্সবাজারে মহানগর এক্সপ্রেসের ওয়াশিংয়ের অবকাঠামো তৈরির জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল বরাদ্দের বিষয়েও কাজ চলছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মহানগর এক্সপ্রেস বর্তমানে একটি রেক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে। কক্সবাজার পর্যন্ত রুট বাড়াতে দুটি রেক প্রয়োজন হবে। এছাড়া দীর্ঘ রুটের সময়সূচি ঠিক রাখতে উচ্চগতির সক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিন প্রয়োজন। রেলের বহরে এমন ইঞ্জিনের স্বল্পতা থাকায় সময়সূচি ঠিক রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চলে উচ্চগতির সক্ষমতাসম্পন্ন ৩ হাজার সিরিজের ৩০টি ইঞ্জিন রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি আনফিট থাকায় নিয়মিত বহরে রয়েছে ১১টি।

পরিবহন বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, ৩ হাজার সিরিজের কিছু ইঞ্জিন উচ্চগতিতে চলার সক্ষমতা রাখলেও অনেকগুলোর পর্যাপ্ত ট্র্যাকশন মোটর নেই। ফলে সেগুলো নির্ধারিত গতিতে চলতে পারে না। আর যেসব ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত মোটর রয়েছে, সেগুলো বিরতিহীন ট্রেনে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এই ট্রেন চালাতে পুরোপুরি ফিট একটি ইঞ্জিন পাওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

যান্ত্রিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের ট্র্যাকশন মোটর বৈদ্যুতিক শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে চাকা ঘোরায় এবং ট্রেনকে সামনে এগিয়ে নেয়। এটি ট্রেন চলাচলের মূল শক্তির উৎস।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments