Sunday, May 3, 2026
Homeআন্তর্জাতিকপাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা সোমবার, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি প্রত্যাখ্যান

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা সোমবার, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার ইঙ্গিত মিলেছে। এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার বৈঠক আগামী সোমবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক অগ্রগতির ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।

অ্যারিজোনার ফিনিক্সে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক ভালো অগ্রগতি হচ্ছে’ এবং দাবি করেন, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইতোমধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, প্রক্রিয়াটি এখন দ্রুত এগোবে।

তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে তেহরান থেকে এসেছে সতর্কবার্তা। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু বক্তব্য ‘বাস্তবতার বিকল্প সংস্করণ’।

বিশেষ করে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো বা অনির্দিষ্টকালের জন্য সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি আল জাজিরাকে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা বা শূন্যে নামিয়ে আনার কোনো প্রস্তাবই গ্রহণযোগ্য নয়।

‘এটি আমাদের কৌশলগত রেড লাইন’, বলেন তিনি।

একই সুরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, ‘সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমাদের কাছে ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই এটি কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।’

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সব পারমাণবিক ‘ধূলিকণা’ পেয়ে যাবে। তবে তেহরান এসব দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করে বলছে, এই ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কূটনীতিকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান ‘কঠোর জবাব’ দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

এদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের পর বৈশ্বিক বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। তবে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলে তেলের দাম কমে আসে এবং শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ টানা তৃতীয়বারের মতো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, আর নাসডাক কম্পোজিট দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্থানের ধারায় রয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যম নিজেই এ ঘোষণায় কিছু অস্পষ্টতার কথা বলেছে, আর আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। শুক্রবার পর্যন্ত জাহাজ চলাচল সীমিত ছিল, যদিও একটি বড় যাত্রীবাহী জাহাজ ঝুঁকি নিয়ে ওমানের মাসকাটের পথে যাত্রা করে।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে লেবাননেও পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। সেখানে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রথম ২৪ ঘণ্টা মোটামুটি বহাল থাকলেও লেবানন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

সব মিলিয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী। ফলে আসন্ন বৈঠকগুলোতে সমাধানের পথ খোঁজা কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments