Thursday, April 30, 2026
Homeসারাদেশরাজশাহীতে লাঞ্ছনার শিকার সেই প্রদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত

রাজশাহীতে লাঞ্ছনার শিকার সেই প্রদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি কলেজে লাঞ্ছনার শিকার প্রদর্শক আলেয়া খাতুনকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক মোহা. আসাদুজ্জামান এ নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আলেয়া ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পরিদর্শনের সময় রাজ্জাক বা আলেয়া কেউই কলেজে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিকল্প মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আলেয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাজশাহী শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা অধ্যক্ষ রাজ্জাক ও আলেয়াকে অপসারণের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আলেয়াকে লাঞ্ছনা করার ঘটনায় অভিযুক্ত জয়নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত আলীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার ডেইলি স্টারকে বলেন, একটি মামলায় শাহাদাতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তিনি বৃহস্পতিবার কলেজে প্রবেশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শাহাদাত কলেজ ক্যাম্পাসের একটি কক্ষের ভেতরে প্রদর্শক আলেয়াকে জুতা দিয়ে পেটাচ্ছেন।

কলেজ সূত্র জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সাত-আটজন ব্যক্তি অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে একটি স্থানীয় সমাবেশের জন্য চাঁদা দাবি করেন এবং সাবেক অধ্যক্ষের মেয়াদের আর্থিক হিসাবের নথিপত্র দেখতে চান।

প্রদর্শক আলেয়া ঘটনাটি তার ফোনে রেকর্ড করতে শুরু করেন। অভিযোগ, শাহাদাত তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাকে চড় মারেন। তখন শাহাদাত জুতা খুলে তাকে মারধর করেন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই প্রদর্শক কলেজের মাঠে এক ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন।

আলেয়া দাবি করেন, ওই নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির অংশ হিসেবে বারবার আর্থিক হিসাব চেয়ে আসছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর হামলা চালায়।’

ডেইলি স্টারকে অভিযুক্ত শাহাদাত বলেন, ‘আমি একটি পুকুরের লিজের টাকা দিতে কলেজে গিয়েছিলাম। তবে তর্কের সময় আলেয়া আমাকে চড় মারলে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারধর করি।’

অধ্যক্ষ রাজ্জাক আগে অভিযোগ করেন, তিনি চার মাস আগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেতারা তার কাছে টাকা দাবি করছিলেন এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হন।

ওসি পঞ্চানন্দ জানান, এখন পর্যন্ত রাজ্জাক বা আলেয়া কেউই থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।

 

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments