এক মাস পেরোলেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। আর এত বড় আয়োজনে সম্ভাব্য সবরকম অনাহূত পরিস্থিতি, বিশেষ করে দাঙ্গা মোকাবিলায় নিজেদের সংবাদকর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
আজ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে আরেক ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
টেলিগ্রাফ স্পোর্ট জানতে পেরেছে, এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রতি কর্মীর পেছনে বিবিসি প্রায় ৭৫০ পাউন্ড বা প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা খরচ করছে। সামগ্রিকভাবে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি।
বিশ্বকাপে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘পাবলিক অর্ডার’ কোর্স চালু করেছে বিবিসি।
এই কোর্সে সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে রোল-প্লে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ রাগান্বিত দাঙ্গাকারীর মতো আচরণ করবেন। এমনকি নকল রক্তও ছেটানো হতে পারে বলেও কর্মীদের আগাম সতর্ক করা হয়েছে।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের আগেও বিবিসি তাদের কর্মীদের এ ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিবিসি এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও টেলিগ্রাফ স্পোর্টকে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ কোনো একক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়। নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং বড় ধরনের ইভেন্টে অংশ নেওয়া কর্মীদের প্রস্তুত রাখতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের প্রাথমিক পর্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে টিভি স্টুডিও স্থাপন না করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিবিসি।
টুর্নামেন্টের অন্তত শেষ পর্যায় পর্যন্ত ইংল্যান্ডের স্যালফোর্ডে থেকেই কাজ করবেন উপস্থাপক ও বিশ্লেষকরা।
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে।
গত সপ্তাহেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ডজনখানেক নাগরিক ও মানবাধিকার সংগঠন একটি ‘বিশ্বকাপ ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করে। এতে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) ‘ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ ও সহিংসতা’ সম্পর্কে দর্শনার্থীদের সতর্ক করা হয়।
এর কয়েক দিন পরই ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা ঘটে। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও গত দুই বছরে তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা করা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী ও মাদক কার্টেল নেতা ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত—নেমেসিও ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস, গ্রেপ্তার অভিযানে নিহত হওয়ার পর সহিংসতার ঢেউ দেখা যায়।
ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণেই বিবিসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

